প্রতিবন্ধিত্ব সূর্যমনিকে হার মানাতে পারেনি

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৯
লোকলজ্জা, ভয়-ভীতি আর অভাব ও শারীরিক প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সূর্যমনি হেমরম। কোন বাধাই হার মানাতে পারেনি তাকে। বিকলাঙ্গ এই মেয়েটির একটি হাত থাকলেও তা স্বাভাবিক নয়। বাহুর কনুইতে তিনটি আংগুল ঝুলছে। এদিয়েই লেখার কাজ দ্রুত চালিয়ে যাচ্ছে সে। এদিক-ওদিক না তাকিয়ে প্রশ্ন উত্তর লিখেই চলছে। তার এই মনোযোগ সবার দৃষ্টি কেড়েছে। বয়স অনুপাতে তার শরীর বাড়েনি। তাই দাঁড়িয়েই লিখতে হচ্ছে প্রশ্নের উত্তর। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী সূর্যমনি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায়ও ফল ভাল করেছিল। পঞ্চম শ্রেণীতেও ভাল ফলাফল করে এলাকায় বিস্ময়কর বালিকা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে সূর্যমনি। ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তিক গোষ্ঠী (আদিবাসী) সাঁওতাল সম্প্রদায়ে তার জন্ম। ভিটে-মাটিও নেই তাদের। বাবা রাপি হেমরম ক্ষেতে কাজ করে সংসার চালান কোন রকমে। মেয়ের লেখাপড়ার আগ্রহ দেখে স্বামীর সঙ্গে সখিনা সরেনও ঘরের বাইরে বেরিয়ে পড়েছেন। অভাব-অনটন থাকলেও বোঝার উপায় নেই। স্বামী-স্ত্রীর দু’জনের আয়-রোজগারে দিন চলে যাচ্ছে তাদের। লেখাপড়া শিখে স্কুলশিক্ষক হতে চায় সূর্যমনি। দুঃখ করে বলেন আদিবাসীরা সুযোগ পেলে তারাও সমাজে দাঁড়াতে পাড়বে। তার স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বনি আমিন বলেন, সূর্যমনি তার স্কুলের মেধাবী ছাত্রী। সহযোগিতা পেলে সে আরও বড় হয়ে ওঠবে।