রামগড়ের শস্যভাণ্ডার খ্যাত বড় পাতরের হাজারো ধানচাষির দুঃখ এখন সেচ সমস্যা। সীমাহীন এই সেচ সমস্যার মূলে রয়েছে ভাঙাচোরা ড্রেন-নালা ও অকেজো স্লুইসগেট। বোরো, আমন সব মৌসুমেই জমির সেচ নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে থাকেন কৃষক। প্রয়োজনীয় সেচ সুবিধার অভাবে ব্যাহত হচ্ছে হাজার হাজার একর জমির চাষাবাদ। কিন্তু কৃষকের এ দুঃখ লাঘবে কারও কোন উদ্যোগ নেই। সরেজমিনে ঘুরে ও কৃষকের সাথে কথা বলে সেচ ব্যবস্থার চরম বেহাল দশার চিত্র পাওয়া গেছে।
রামগড় সদরের প্রাণকেদ্রে বড় পাতরে প্রায় ১০টি গ্রামজুড়ে ১৫০০ একরের মত ধানি জমি রয়েছে। কৃষকরা জানান, দো-ফসলি এসব জমিতে সেচ দেয়ার জন্য দেশ স্বাধীনের আগে এবং ১৯৮০-৮১ সালে নির্মাণ করা হয় প্রায় ৫ হাজার ফুট পাকা সেচনালা বা ড্রেন। বর্তমানে এর প্রায় ৯০ ভাগ ড্রেনই ভেঙে অকেজো হয়ে গেছে। কৃষকরা জানান, রামগড়ের সবকটি ইটের ভাটা বড় পাতরে ধানের জমিতে স্থাপিত হয়েছে। এই ভাটার কারণে একদিকে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে পুরো সেচ ব্যবস্থা ভেঙ্গে গেছে। ইটের ভাটার জন্য মাটিতে গর্ত করার কারণে মূলত ড্রেনগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ না হওয়ায় কিছু ড্রেন ভেঙে গেছে। পাম্প মালিক ভুবন মোহন ত্রিপুরা বলেন, ফেনীরকূল এলাকায় তার স্কিমের আওতায় প্রায় ২০০০ ফুট পাকা ড্রেনের মধ্যে অধিকাংশই অচল। বর্তমানে পরিত্যক্ত মহিপাল ব্রিকস নামে একটি ইটের ভাটার কারণে তার স্কিমের ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বিধ্বস্ত ড্রেন সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের জন্য খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে একাধিকবার আবেদন করেও কোন ফল পাইনি।
এদিকে সোনাইছড়ি খালের ওপর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্লুইসগেটটি কৃষকের কোন উপকারেও আসেনি। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছর যাবত্ পরিত্যক্ত পড়ে আছে এটি। শত শত একর জমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সর্বপ্রথম একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করে। কিন্তু নির্মাণ কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ঐ বছরই স্লুইসগেটটি খালের পাড়সহ ধসে যায়। পরে এর পাশে নতুন খাল খনন করে ৮ ভেন্টের আরেকটি স্লুইসগেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের কারণে শুষ্ক মৌসুমে ভেন্টগুলো বন্ধ করলে খালের পানি জমির ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে ফসলের ক্ষতি হয়। ফলে কৃষকরা স্লুইসগেটটি ব্যবহার না করায় নির্মাণের পর থেকেই এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
