গোপালগঞ্জে বাস মালিকদের সংঘর্ষ সহ সভাপতিসহ আহত ১০

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
গোপালগঞ্জ মহাসড়কে গাড়ি থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে বাস মালিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতিসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে শহরের পুলিশ লাইন্স মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মারাত্মক আহত জেলা বাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নওশেরুজ্জামান শেখ নসু (৬৫), কেরামত আলী (৪৫) ও মোঃ মানু শেখকে (৪০) গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ ছাইফুল ইসলাম, এ.এস.পি সার্কেল মোঃ মনিরুল ইসলামসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ৩ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল হোসেন গ্রুপের লোকজন ২০ টাকার স্থলে বাসপ্রতি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা আদায় করছে। এ অভিযোগে সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি ইলিয়াস হোসেনের লোকজন চাঁদা বন্ধ করতে রবিবার সকাল ১০ টায় চাঁদা আদায়কারীদের বাধা দেয়। এ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হলে গাড়ি চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। সংঘর্ষে বাস মালিক নওশের শেখ নসু (৬৫), বাস শ্রমিক কেরামত আলী (৪৫) ও মোঃ মানু শেখ (৪০),সিরাজুল হক সিরাজ (৫৫), মিলায়েত শেখসহ (৫০) উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনার পর প্রশাসন বেলা ১২ টার দিকে চাঁদা তোলা বন্ধ করে দেয়। বাস মালিকরা জানান, মালিক সমিতি ২০ টাকার স্থলে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা আদায় করছে। এতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মোঃ ইলিয়াস হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সড়কে চাঁদা আদায়ের বিধান রয়েছে মাত্র ২০ টাকা । কিন্তু সে বিধান অমান্য করে জেলা বাস মালিক সমিতি ১শ’ থেকে ৫শ’ টাকা আদায় করছে। চাঁদা আদায়ে বাধা দেয়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জ জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল হোসেন বলেন, এক সাথে শ্রমিক সমিতি, মালিক সমিতি ও পৌর পার্কিংয়ের টাকা উত্তোলন করা হয়। এ জন্য টাকার পরিমাণ বেশি হতে পারে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোন মালিক আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেনি। জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের পর পরাজিত শ্রমিক নেতা বুলবুল ইসলামের লোকদের আদায় কাজ থেকে বাদ দেয়া হয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ৪/৫ দিন আগে সমঝোতার মাধ্যমে দু’ গ্রুপের লোকজন টাকা আদায় করছে। মালিক সমিতিতে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতেই পরিবহন সড়ক মালিক গ্রুপ অতর্কিতে হামলা করেছে।