প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের বারবার ক্ষতির দিক বিবেচনায় নিয়ে কৃষিখাতকে বীমার আওতায় আনার বিষয় চিন্তা করতে বেসরকারি বীমা কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ এদেশের এক নিত্য ঘটনা। এতে দেশের গোটা অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
তিনি বলেন, ‘কৃষিকে অধিকতর উত্পাদনশীল খাতে পরিণত করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় বীমা খাতকে নতুন পদক্ষেপ নিতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারি খাতে বীমা কোম্পানিগুলোকে অবশ্যই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তবে এই উদ্যোগ সফল করতে বেসরকারি খাতের বীমা কোম্পানিগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’
শেখ হাসিনা গতকাল হোটেল সোনারগাঁওয়ে এই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘কৃষি ও ক্ষুদ্র বীমা’ শীর্ষক এক সেমিনারে ভাষণকালে এ কথা বলেন। তাঁর সরকার রাষ্ট্রায়ত্ত সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের মাধ্যমে কৃষিবীমা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে- একথা উল্লেখ করে তিনি এক্ষেত্রে বেসরকারি বীমা খাতগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের এ্যাকচুয়ারি চেয়ারম্যান এম শফিক আহমেদ, আফ্রো-এশিয়ার বীমা ও পুনঃবীমা ফেডারেশনের মহাসচিব হাম্মাম বদর ও বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিখাতকে বীমার আওতায় আনা হলে উত্পাদনশীলতা বাড়বে এবং কৃষকরা ঋণের চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।
তিনি সকল বীমা প্রতিষ্ঠানকে সামাজিক দায়িত্বশীলতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে সরকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
শেখ হাসিনা বীমা কোম্পানির সঙ্গে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সম্পৃক্তির কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বীমা খাতে অধিক আগ্রহ দেখিয়েছেন। কারণ এই খাতটি জীবন ও সম্পদের ক্ষতির বিপরীতে নিরাপত্তার যোগান দেয় এবং পুঁজি ও বিনিয়োগের জন্য তহবিল সৃষ্টি করে।
বীমা শিল্পের নানাবিধ সুবিধার কথা বিবেচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বীমা খাতের উন্নয়ন ও আধুনিকীকরণে গুরুত্ব দিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান সরকার বহুদিনের পুরনো ১৯৩৮ সালের আইন পরিবর্তন করে বীমা আইন-২০১০ প্রণয়ন করেছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আইন প্রধান বীমা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রতিস্থাপনে প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া এই আইনের বীমা আইন-২০১০-এর যথাযথ বাস্তবায়নে বিধি-বিধান প্রণয়নে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের প্রধান হিসাবে একজন এ্যাকচুয়ারি নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বীমা সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নত দেশের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বীমাভুক্তির হার অনেক কম।
শেখ হাসিনা বলেন, কৃষিখাত, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এদেশে ফসলহানি ও অর্থনীতির ক্ষতি এক নিত্য ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা তদের ফসল ঘরে তুলতে পারছে না। এ ধরনের দুর্যোগ কখনো কখনো তাদেরকে ঋণের দুষ্টুচক্র আটকে পড়তে বাধ্য করছে।
