সেপ্টেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আসছে জুন মাসে ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ এবং তার সহকারি রেনে কেস্তারের বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব নেয়ার কথা। কিন্তু বাফুফে চেয়েছিল মার্চে নেপালে অনুষ্ঠেয় এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে সাময়িকভাবে হলেও ডাচ কোচরা জাতীয় দলের দায়িত্ব নিক। বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে সে জন্য একটা সমঝোতাও হয়েছিল। কিন্তু এখন এই ফেব্রুয়ারি মাসে এসে আবার টানাপোড়েন শুরু হয়েছে কোচদের সঙ্গে। সর্বশেষ যে দাবি-দাওয়া আর শর্ত পাঠিয়েছেন কোচরা; তাতে শেষ পর্যন্ত নেপাল টুর্নামেন্টে এই ডাচ কোচদের দেখা না গেলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
এ মাসের শেষ দিকে দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার জন্য ডাচ কোচরা প্রথমে বাফুফেকে যে সব শর্ত দিয়েছিল তার সবই পূরণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। তিন সপ্তাহ কাজ করলে পুরো মাসের ত্রিশ লাখ টাকা বেতন, বিমান ভাড়া, গাড়ি, বাড়িসহ অন্যান্য যা কিছু সুযোগ সুবিধা পূরণ করতে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করতে রাজি ছিল বাফুফে। সাথে বাফুফে জানিয়েছিল চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের বাছাইপর্ব পার হতে পারলে কোচদের ১০ হাজার ইউরো বোনাস দেবেন।
কিন্তু এখন ডাচ কোচ নিয়ে নতুন জটিলতায় পড়েছে বাফুফে। শনিবার নতুন আবদার পাঠিয়ে চিঠি দিয়েছে এজেন্ট। বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কাল জানালেন এই সব জটিলতার কথা। এবার নাকি কোচরা বলছে, চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের জন্য খুব বেশি সময় দিতে পারবেন না তারা। মাত্র ১২ দিন কাজ করবেন তারা। এর জন্য সব সুযোগ সুবিধাসহ পুরো এক মাসের বেতনই আজ-কালের মধ্যেই পাঠাতে হবে। বোনাসের অর্থটাও বাছাই করা না করার ওপর ছাড়তে রাজি নন এই কোচরা। তারা নাকি বলেছেন, ১০ হাজার ইউরোর মধ্যে খেলার আগেই পাঁচ হাজার ইউরো আগাম পরিশোধ করতে হবে।
সবচেয়ে বিচিত্র চাওয়া হচ্ছে—চ্যালেঞ্জ কাপের জন্য যে চুক্তিটি হবে তা বাফুফে বাতিল করতে পারবে না; কিন্তু ডাচ কোচরা চুক্তি বাতিল করার অধিকার রাখবেন। আবদার আরো আছে। ডাচ কোচদের এজেন্ট জানিয়েছেন মূল কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ যদি না আসতে পারেন তাহলে তার সহকারি রেনে কেস্তার আসবেন। আর যদি রেনে কেস্তার না আসতে পারেন তাহলে তৃতীয় কোনো কোচকে বাংলাদেশে পাঠাবেন চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের জন্য।
এতো সব আবদার শুনে এরকম হতবাক বাফুফে। বাফুফে সভাপতি গতকাল দুপুরে ডাচ কোচদের আবদারের চিঠিপত্র পড়ে বললেন, ‘আমি টাকা-পয়সা নিয়ে চিন্তা করি না। চেয়েছিলাম চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলে আমাদের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সটা সঠিক ভাবে দেখে কোচরা একটা উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। যা থেকে কোচ বুঝতে পারবেন সাফের জন্য কী করতে হবে। এজন্য সব চাওয়াই তো পূরণ করতে রাজি ছিলাম। কিন্তু এখনই আগাম বেতন পাঠাতে হবে, খেলার আগেই বোনাস পাঠিয়ে দিতে হবে। চুক্তি বাতিলের অধিকার শুধু তাদেরই থাকবে। মূল কোচ না আসতে পারলে সহকারি আসবেন। সহকারি না আসতে পারলে অন্য কাউকে পাঠাবেন। এটা কি করে হয়? এই সব কে মানবে?’
অবশ্য এখনই মানা বা না-মানা বিষয়ক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাফুফে। তারা কোচদের সঙ্গে আরো আলোচনা করতে চায়। যদি সন্তোষজনক আলোচনা না হয় তাহলে ডাচ কোচের ফাইল এখানেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
তার মানে কী আবার শুরু হচ্ছে কোচ খোঁজার পর্ব!
