আশরাফুলের সেঞ্চুরিতে জিতল ঢাকা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৪
সেঞ্চুরি করলেই লোকে বলে আশরাফুল পেরেছেন, আর বিশ-ত্রিশ রান করলেই মনে করেন ব্যর্থ এ ক্রিকেটার। এ ধ্যান-ধারণাও একটা সমস্যা আশরাফুলের জন্য। গতকাল খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি পেলেন, কিন্তু পরের ম্যাচে যদি না পারেন? তাহলে ক্রিকেটামোদীরা বলবেন আশরাফুল ব্যর্থ হয়েছে। নিজের এ হতাশার কথা জানাতে গিয়ে আশরাফুল বললেন, ‘আজ সেঞ্চুরি পেয়েছি সব ঠিক আছে। কিন্তু কাল যদি বিশ-পঁচিশ রান করি তবে বলবে আমি ব্যর্থ হয়েছি। এটাই আমাকে চাপে ফেলে। খেলার সময় এ চাপ আমার কাছে বেশি লাগে’। চাপের মধ্যে ভালো খেলতে পারেন না আশরাফুল। অতীতে এ রকম চাপের কারণেই বারবার ব্যর্থ হয়েছেন। তবে গতকাল সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সেই চাপকে জয় করে নিজে সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার পাশাপাশি ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকেও এনে দিলেন ছয় উইকেটের দুর্দান্ত এক জয়। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, তাই সেঞ্চুরিটাও আশরাফুলের কাছে ব্যতিক্রম। এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি এভাবে, ‘দলের টপ তিন ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর আমাকে হাল ধরতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি পেয়েছি এবং দলও জিতেছে। তাই সেঞ্চুরিটা আমার কাছে একটু অন্যরকম’। খুলনার ১৭৬ রানের জবাবে ঢাকা ব্যাট করতে নামলে ৪৫ রানের মধ্যে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান তিলকরত্নে দিলশান, সাকিব আল হাসান ও এনামুল হক বিজয়। এদের বিদায়ের মধ্যেও ওপেনিংয়ে নামা আশরাফুল উইকেট আঁকড়ে থেকে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকেই ম্যাচ জেতান দলকে। ফর্মের ঘাটতিতে জাতীয় দলে অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন তিনি। নির্বাচকদের সুনজরও তাই পড়ে না অতটা। শ্রীলংকা সফরের আগে কালকের সেঞ্চুরিটা আশরাফুলের নিজের প্রত্যাশাও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই তিনি বলতে পারেন, ‘আশা তো করি শ্রীলংকা সফরে দলে জায়গা পাব। তাছাড়া শ্রীলংকার বিরুদ্ধে আমার রেকর্ডও খুব ভালো। চারটি সেঞ্চুরি রয়েছে আমার। নির্বাচকরা এ বিষয়টা চিন্তা করে দেখতে পারেন’। আশরাফুল ২০০৬ সালে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। পরেরটি এলো কাল। সেটাও এমন এক সময়, যখন তার ফর্ম নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। মূলত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) থেকে তার ভালো খেলা শুরু। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জাতীয় লিগে (এনসিএল) আমি এমন বাজে পারফর্ম করেছি, মনে হয়েছে ক্রিকেট খেলাটাই ভুলে গিয়েছিলাম। বিসিএলও খেলতে চাইনি। কিন্তু সতীর্থদের অনুরোধে বিসিএল খেলি এবং সেখানে ভালো খেলি। এটার জন্য অবশ্য বগুড়ার উইকেট সহায়তা করেছে। আর বিপিএলে ভালো খেলা যায়, কারণ এখানে চাপ থাকে না, শট খেলা যায়’। ঢাকার প্রাথমিক বিপর্যয়ের পর ১০৬ রানের মাথায় ২০ বলে ৩১ রান করা জ্যাশন কোবও যখন ফিরে যান সে সময় জয় ছিল অনেকটাই দূরে। এ রকম পরিস্থিতি থেকে স্টিভেন্স (২১ বলে ৩৬) এবং ৫৮ বলে ১০৩ রান করা আশরাফুল দলকে জেতান। ২৭ বলে ফিফটি পাওয়া এ ওপেনার সেঞ্চুরি পেয়েছেন ৫৬ বলে। তার সেঞ্চুরির চিন্তাটা এসেছে মূলত দশ ওভারের পর থেকে, যখন তিনি ৫৬ রানে দাঁড়িয়ে। এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘হ্যা আমি দশ ওভারের পর চিন্তা করেছি যদি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকি তবে সেঞ্চুরি পেয়েও যেতে পারি’। আশরাফুলের সেঞ্চুরি ঢাকাকে জিতিয়েছে, কিন্তু খুলনার ট্রেভিস ব্রিটও কম খেলেননি। ৫৬ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ছয়টি করে চার ও ছয় মেরেছেন। তুলোধুনো করেছেন ঢাকার বোলারদের। তারপরও দল হেরেছে। বড় ইনিংসের জন্য ভাগ্য একটা বিরাট ব্যাপার এটা বোঝাতে চাইলেন আশরাফুল। কারণ, দশ ম্যাচে তার আরো একটি ফিফটির উপরে রান ছিল। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৪৭ বলে ৭৩ রান করেছিলেন। কিন্তু সেঞ্চুরি হয়নি। এ ব্যাপারে আশরাফুল, ‘বড় রান পেতে হলে অবশ্যই ভাগ্য লাগে। একজন খেলোয়াড়ের জন্য ভাগ্যটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ’। গত বিপিএলেও খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি কিন্তু রান পাননি। গত বিপিএলের চারটি সেঞ্চুরির সবগুলোই বিদেশিদের। এবার এখন পর্যন্ত যে দুটি সেঞ্চুরি হয়েছে, দুটিই এসেছে স্থানীয়দের ব্যাট থেকে (নাফীস ও আশরাফুল)। সংক্ষিপ্ত স্কোর: খুলনা রয়েল বেঙ্গলস- ২০ ওভারে ১৭৬/৬ (ব্রিট অপ: ৯৪, মুবারক ৬৫, থোমাস ৩/৩৪, সাকিব ২/২৪)। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস- ১৯.২ ওভারে ১৮০/৪ (আশরাফুল অপ: ১০৩, স্টিভেন্স অপ: ৩৬, কোব ৩১, শাপুর ১/৩২)। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মোহাম্মদ আশরাফুল। ফল: ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস জয়ী ৬ উইকেটে।