ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার বা মারিও জাগালোর সঙ্গে তার তুলনা কোনোভাবেই চলে না। কিন্তু এক অর্থে এই দুই কিংবদন্তীর মতোই এক কীর্তির মালিক এখন নাইজেরিয়ার কোচ স্টিফেন কেসি। বেকেনবাওয়ার,জাগালো খেলোয়াড় ও কোচ হিসাবে জিতেছিলেন বিশ্বকাপ। আর কেসি খেলোয়াড় ও কোচ হিসাবে জিতে নিলেন আফ্রিকান নেশন্স কাপ। কেসি মাত্র দ্বিতীয় ব্যক্তি যিনি এমন কৃতিত্ব দেখালেন। এমন কীর্তির পর নিজেকে নিয়ে অবশ্য মেতে নেই এই কোচ। বরং বলছেন, এই শিরোপা জয় প্রমাণ করে যে, নাইজেরিয়া পরিষ্কার উন্নতির পথেই আছে।
পুরো টুর্নামেন্টে দলের খেলায় খুশি কোচ কেসি। গ্রুপ পর্বে সুপার ঈগল খ্যাত নাইজেরিয়া দ্বিতীয়স্থান অধিকার করেছিল। সেমিফাইনালে তারা মালিকে ৪-১ গোলে হারায়। ফাইনালের বাধাও টপকে গেল অনায়াসে। কেসি বললেন, ‘এই দলের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রয়োজন ধৈর্য ধারণ করা। আমাদের আরো কঠিন পরিশ্রম করা দরকার। আমরা এখনো কাজ করে যাচ্ছি। নিজেদের এখনো গড়ে তুলছি আমরা। এই টুর্নামেন্টে ছেলেরা যেমন খেলেছে, তাতে আমি খুবই গর্বিত। খেলোয়াড়রা সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়েছে। আশাকরি এটা চলতে থাকবে। আমার এই খেলোয়াড়দের যোগ্যতার অভাব নেই। আমি মনে করি তারা সঠিক পথেই রয়েছে।’
কেসির আগে আর একজন মাত্র খেলোয়াড় ও কোচ হিসাবে আফ্রিকান নেশন্স কাপ জিতেছেন। তিনি মিশরের মাহমুদ এল গোহারি। ১৯৫৯ সালের ফাইনালে মিশর ২-১ গোলে সুদানকে হারিয়ে যখন শিরোপা জেতে, তখন দলের অংশ ছিলেন গোহারি। ৩৯ বছর পর তার কোচিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় মিশর।
এবার কেসি স্পর্শ করলেন সেই রেকর্ড। কেসি খেলোয়াড় হিসাবে নেশন্স কাপ জিতেছিলেন সেই সোনালি প্রজন্মের হয়ে। সুপার ঈগলদের সোনালি প্রজন্ম বলা হয় থাকে ১৯৯৪ সালের দলটিকে। যে দলটিতে ছিলেন কেসি। সেই দলটি সে বছর জাম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করেছিল। তিনি কি তখন ভেবেছিলেন কোচ হিসাবে তিনি ও তার দেশ আবার এই শিরোপা একসাথে জিতে নিতে পারবেন!
ভাবুন আর নাই ভাবুন; সেই শিরোপা আবার কেসির হাতে। আরেকটি শিরোপা জয়ের পর কেসি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে পুরো দেশের জন্য এই অর্জন উত্সর্গ করেছেন। উত্সর্গ করেছেন নিজের সব পূর্বসুরিকে, ‘এই টুর্নামেন্টটা জয় আসলে আমার জাতির জন্য। প্রায় দেড় বছর আগে যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, আমার স্বপ্ন ছিল প্রত্যেক নাইজেরিয়ানকে খুশি করা। এটাও জানতাম এই দলটি ভাল। আমি এটা উত্সর্গ করতে চাই সকল নাইজেরিয়ান কোচকে। যারা এই দলটির জন্য প্রার্থনা করেছেন এবং ধারাবাহিকভাবে দলকে এখানে আসতে সহায়তা করেছেন। এটা শুধু আমার জন্য নয়।’
কেসির দৃষ্টি এখন ভবিষ্যতে। নাইজেরিয়া কনফেডারেশন কাপ খেলতে ব্রাজিলে যাবে চলতি বছরের জুনে। কেসি বলেন,‘এই দলটির আরো অভিজ্ঞতার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ সামনে এই টুর্নামেন্টটি আসছে। আপনি এমন দলের এবং প্রতিযোগিতায় খেলতে গেলে আগে ছেলেদের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। ব্রাজিলের কনফেডারেশন কাপের বাছাইয়ে টিকে যাওয়াটা নাইজেরিয়ার জন্য সম্মানের।’
