গোয়ালন্দের জলমহাল প্রভাবশালীদের দখলে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৫১
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলাধীন মরাপদ্মা নদী নামে পরিচিত উজানচর বদ্ধকোল জলমহাল দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র। এতে এলাকার ৫শতাধিক মত্স্যজীবী পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। অনেকেই বংশানুক্রমিক এ পেশা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। জানা গেছে, সর্বশেষ রেকর্ড অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গাসহ বর্তমানে জলমহালটির আয়তন ১৪৮.২০ একর। যা দৌলতদিয়া ডাকবাংলো থেকে উজানচর ইউনিয়নের গাজীডাঙ্গা পর্যন্ত প্রায় ১০কিলোমিটার এবং গোয়ালন্দ বাজার বিহারীমারা কোল থেকে উজানচর মঙ্গলপুর পর্যন্ত ৫কিলোমিটারসহ মোট ১৫কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এ জলমহালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আবর্তিত হচ্ছে দৌলতদিয়া ও উজানচর ইউনিয়নের ৫শতাধিক মত্স্যজীবীর জীবন-জীবিকা। কিন্তু স্থানীয় একটি প্রভাবশালীমহলের চাপে প্রকৃত মত্স্যজীবীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সূত্র জানায়, চার বছরের জন্য নামসর্বস্ব দক্ষিণ উজানচর মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির নামে এই বদ্ধকোল জলমহালটি লিজ দেয়া হলেও এখানকার কেউই মত্স্যজীবী নয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় জামতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লোকমান হোসেন জানান, বৃহদাকৃতির এই বদ্ধকোলটি তারা খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সাব-লিজ দিয়ে অর্থ আদায় করছেন। এজন্য দীর্ঘ এই জলমহালের অভ্যন্তরে নিয়ম-নীতির কোন তোয়াক্কা না করেই স্থাপন করা হয়েছে ১৪-১৫টি বাঁধ। বাঁধগুলোর কারণে নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক কারণে এবিষয়ে নিশ্চুপ। এদিকে পূর্ব উজানচর গফুর মণ্ডলের পাড়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আইজদ্দিন মোল্ল¬¬া, মত্স্যজীবী মঙ্গল হালদার (৬০), আদেলউদ্দিন মোল্লা (৬৫), খোরশেদ সরদার (৬০) অনেকেই জানান, জলমহাল নিয়ে কোন প্রকার উচ্চবাচ্য করলেই তাদের মারপিট করাসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কয়েকজনকে জেলেও পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য এজাজ আহমেদ বলেন,এ জলমহালটি প্রকৃত মত্স্যজীবীদের দখলে না থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এটি অবৈধদখলমুক্ত করে সাধারণ মত্স্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ছরোয়ার হোসেন বলেন, জলমহালটির ব্যাপারে উচ্চ আদালতে কোন রায় হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। সমস্যা নিয়ে স্থানীয় মত্স্যজীবীরা এসেছিলেন। বিষয়টির আইনগত সমাধানে তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন।