আনন্দ ভ্রমণ

ঘুরে এলাম সবুজ পাহাড়ে

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫১
স্বচ্ছ পানির নিচে চকচকে বালি। খালের মতো সরু অংশ দিয়ে চলছে ডিঙি নৌকা। অদূরে নয়নাভিরাম সবুজ পাহাড়। পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা ঝর্ণা। নদীর বুকে পাথর উত্তোলনে ব্যস্ত শ্রমিকরা। এ যেন উপচেপড়া সৌন্দর্য। মনটা খুশিতে লাফিয়ে উঠে। হাতের ক্যামেরাগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আনন্দঘন মুহূর্তগুলো স্মৃতির ফ্রেমে বন্দী রাখার প্রতিযোগিতা। ক্লিক ক্লিক শব্দে আলোকিত চারিদিক। বলছিলাম সিলেটের জাফলং ভ্রমণের কথা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রাজবাড়ি জেলা সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ। বৃহস্পতিবার রাত দশটা। আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের সামনে থেকে হুড়মুড় করে গাড়িতে উঠলাম আমরা। ৩৬০ আওলিয়ার দেশ সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু। কেউ গান গাইছে, কেউবা গল্পে ব্যস্ত। ট্যুর আমার কাছে আনন্দের, সুযোগ পেলে হাতছাড়া করি না বলছিল জাকির। ক্যাম্পাসকে পিছনে ফেলে এগুচ্ছি আমরা দ্রুত গতিতে। সকাল সাড়ে সাতটায় পৌঁছালাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শাহ পরাণ হলে ফ্রেশ হলাম। নাস্তা সেরে দল বেঁধে শুরু হল ঘোরাঘুরি। সাজানো গোছানো ক্যাম্পাস। দৃষ্টিনন্দন অডিটোরিয়াম আর পাহাড়ি টিলার উপরে শহীদ মিনারে চলল ফটোসেশন। তারপর জাফলং এর উদ্দেশে যাত্রা শুরু হলো আমাদের। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে উঁচু-নিচু,আঁকা-বাঁকা রাস্তায় গাড়ি ছুটছে। চারিদিকে জনশূন্য ফাঁকা মাঠ আর মাঠ। রোমাঞ্চকর অভিযান। সকাল ১১টায় পৌঁছালাম রূপের রাণী জাফলংয়ে। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া জয়ন্তিকা পাহাড়ের কোল বেয়ে বয়ে যাওয়া পিয়াইন নদীর দৃশ্য সত্যিই অপরূপ। টল টল স্বচ্ছ পানি। পাহাড়ের মাথা ঘেঁষে তুলোর মত মেঘের ছুটে চলা। মন চাইছিল ছুঁয়ে দেখতে। প্রকৃতি যেন তার সব সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে। সীমান্তের ওপারে দুই পাহাড়ের মাঝখানে ডাউকি বন্দরের উপরে ঝুলন্ত সেতু বাড়িয়ে তুলেছে জাফলংয়ের সৌন্দর্য। গিয়েছিলাম রাখাইন পল্লীর সমতল ভূমির চা বাগানে। গোয়াইন ঘাট থেকে দুই কিলোমিটার। হেঁটে গিয়েছিলাম। রাখাইন পল্লীর রাস্তার ধারে সুপারি গাছে জড়িয়ে আছে পান গাছের লতা। পানপাতা সংগ্রহ করছেন রাখাইন পুরুষরা। ৩-৪ চার ফুট উঁচু মাচাতে তৈরি রাখাইনদের বাড়ি। বাড়ির উঠানে বসে পান খাঁচা ভর্তি করে বিক্রি উপযোগী করছেন মহিলারা। চা বাগানের দৃশ্য ঠিক ছবির মত।