সিরিয়ার বিরোধী জোটের নেতা মোয়াজ আল-খতিবের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করতে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তবে যত চাপই বাড়ুক আসাদ পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন। এদিকে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তে একটি মিনিবাসে বিস্ফোরণে উভয় দেশের মোট ১৩ জন নিহত হয়েছে। এরই মধ্যে সিরিয়ার বৃহত্তম জলবিদ্যুত্ কেন্দ্রটি বিরোধীরা দখল করেছে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বিরোধী জোটের প্রধানের শান্তি আলোচনার প্রস্তাব গ্রহণ করতে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার বান কি মুন বলেন, ‘জাতীয় জোটের নেতা মোয়াজ আল-খতিবের সরকারের সাথে আলোচনার এ প্রস্তাব একটি বড় সুযোগ। আপনারা এ সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। রাজনৈতিকভাবে সিরিয়ার সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে এটি বড় সুযোগ।’
এদিকে সিরিয়ার বিরোধী জোটের নেতা মোয়াজ আল-খতিব কায়রোতে সোমবার বলেন, সংলাপের ব্যাপারে তার দেয়া প্রস্তাবের বিষয়ে আসাদ সরকারের পক্ষ থেকে তিনি এখন পর্যন্ত সুস্পষ্ট কোন সাড়া পাননি। খতিব জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে বলেছিলেন, তিনি সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করতে প্রস্তুত আছেন।
তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সোমবার পুনরায় বলেছে, ‘যতই চাপ বাড়ুক, এটা কোনো ব্যাপার না’, তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সানায় তিনি আরো বলেন, শুধুমাত্র সিরিয়া নয়, সকল আরবকে লক্ষ্য করে যে তীব্র চাপ এবং নানামুখী ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও সিরিয়া তার মূলনীতি থেকে সরে যাবে না এবং আরব বিশ্বের হূদয় হিসেবেই থাকবে।
এদিকে সিরিয়া-তুরস্ক সীমান্তের কাছে একটি মিনিবাসে বোমা বিস্ফোরণে ১০ সিরীয় এবং তিন তুর্কি নাগরিকসহ মোট ১৩জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছে। তুর্কি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেনি। জানা গেছে, সিরিয়ার হাতায় প্রদেশে তুরস্কের সীমান্তবর্তী সিলভেগোজু শুল্ক দপ্তরের কাছে সোমবারের বিস্ফোরণটি ঘটেছে। সিরীয় শরণার্থীদের তুরস্কে প্রবেশ করার এটা প্রধান একটি পারাপার কেন্দ্র।
এরই মধ্যে সিরিয়ার বিদ্রোহীরা দেশটির বৃহত্তম জলবিদ্যুত্ বাঁধটি দখল করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে সরকারি বাহিনী কৌশলগতভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ধারণা হচ্ছে। বিরোধী গ্রুপগুলো বলেছে, যোদ্ধারা বাঁধটির প্রবেশপথে এবং রাকা প্রদেশের বহির্মুখে পাহারা দিচ্ছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে হয়েছে, সিরিয়ার উত্তরে ইউফ্রেটাস নদীর উপর অবস্থিত বাঁধটি এখনো কার্যকর আছে।
