নান্দাইলে অপহূত কিশোরী উদ্ধার

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:০৩
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার গাঙ্গাইল ইউনিয়নের সুন্দাইল গ্রামের এক কিশোরীকে অপহরণের ছয়দিন পর উদ্ধার করেছে তার স্বজনরা। জড়িত থাকার অভিযোগে মেয়েটির বাবা হলুদ মিয়া, লক্ষুু মিয়া, আনোয়ার হোসেন, মারুফা, তাসলিমা ও কুলসুমের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মেয়েটির মা জেসমিন আক্তার জানান, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে মেয়েটিকে প্রতিবেশী আঃ হাইয়ের দুই মেয়ে মারুফা ও তাসলিমা ডেকে নিয়ে যায় তাদের বাড়ি। ওই দুই মেয়ে কিশোরীটির সমবয়সী ও প্রতিবেশি হওয়ায় তার মা যেতে বারণ করেনি। ওই বাড়িতে আগে থেকে অবস্থান করছিলো হলুদ মিয়া ও তার সহযোগিরা। তার মেয়ে সেখানে গেলে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত জায়গায় ৬দিন আটকে রেখে বিয়ের নামে দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দেয়ার চেষ্টা চালায়। মেয়েটি অপহরণের বর্ণনা দিয়ে ইত্তেফাককে জানায়, ‘ওই বাড়িতে যাওয়ার পর হলুদ মিয়া কাপড় দিয়ে আমার মুখ পেঁচিয়ে পাজাকোলা করে আঃ হাইয়ের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে আরও একজন লোক অপেক্ষমাণ ছিল। পরে তারা আমাকে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে টানা ছয়দিন আটকে রেখে মেরে ফেলাসহ নানা ভয়-ভীতি দেখায়। আটক থাকা অবস্থায় আমাকে বিক্রি করার জন্যে তারা বিভিন্ন স্থানে ফোনে কথা বলতো। এদিকে মেয়েটিকে উদ্ধারের পর সুন্দাইল গ্রামে শুরু হয় এক নাটক। পাচারকারী চক্রটিকে রক্ষার জন্যে ৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দুয়ার পাইকুড়া বাজারে এক সালিশ বসানো হয়। সালিশে উপস্থিত বাজারের শাহজাহান নামে এক ব্যবসায়ী জানান, সালিশ চলাকালে হলুদ মিয়া, লক্ষু মিয়া ও আনোয়ার তাদের অপকর্মের কথা স্বীকার করে ক্ষমা চায়। সুন্দাইল গ্রামের মর্তুজ আলী (৬২) এ সালিশে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, সালিশকারীরা ঘটনার জন্যে ওই তিনজনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করে। সালিশে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হান্নান, সিদ্দিক, কদ্দুস মাস্টারসহ আরও অনেকেই। জরিমানার টাকা মেয়েটির ভবিষ্যতের জন্যে দেয়া হবে বলে বলা হয়। গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে টাকা পরিশোধের দিনক্ষণ ঠিক করা নিয়ে ওই বাজারে আরও একটি সালিশ বসে। সোমবার রাত দশটায় মামলার বাদী জানান, থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে অপহরণকারীদের হুমকির মুখে রয়েছে তার পরিবার।