গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জে রংপুর সুগার মিলের উত্পাদিত চিনি বিক্রি না হওয়ায় চরম অর্থসংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে কয়েক হাজার আখচাষি তাদের সরবরাহকৃত আখের মূল্য পাচ্ছেন না। গত আখ মাড়াই মৌসুমের শুরুতে কিছু আখ চাষির পাওনা পরিশোধ করা হলেও পরে আর কোন টাকা পরিশোধ করা হয়নি। বর্তমানে চাষিদের পাওনা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। একই কারণে চিনি কলের ৮৪৭ জন কর্মকর্তা ও শ্রমিক-কর্মচারীর সকল প্রকার বেতন-ভাতা ২ মাস ধরে বন্ধ হয়ে আছে। বকেয়া বেতন-ভাতার পরিমাণও ১ কোটি টাকা।
বিগত বছরের অবিক্রিতসহ প্রায় ১৯ কোটি টাকার ৩ হাজার ৭শ মেঃ টন চিনি বিক্রি না হওযায় তা মিলের গুদামে পড়ে রয়েছে। সরকারি চিনি কলের চেয়ে বেসরকারি মিলে উত্পাদিত চিনির দর কম হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। কোন চিনি কলেই আখ চাষিদের পাওনা ও মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারছে না। এ কারণে অনেক চাষি কম দামে তাদের টাকা প্রাপ্তির রশিদ মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
একই ভাবে অনেক শ্রমিক-কর্মচারী দাদন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কোনমতে দিনাতিপাত করছেন। রংপুর চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আবু সুফিয়ান সুজা জানান, ২ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় শ্রমিক- কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেকেই দেনা করে সংসার চালাচ্ছেন। চিনি কলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আব্দুল খালেক জানান, ডিলাররা নিয়মিত চিনি উত্তোলন করছেন না। আবার স্থানীয় ভাবেও চিনি বিক্রি হচ্ছে না। মূলত চিনি বিক্রি না হওয়ায় চিনি কল অর্থ সংকটে পড়েছে।
