গত কয়েকদিন ধরে শেয়ারবাজারে অব্যাহতভাবে লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিদিনই দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন বাড়ছে। ওইদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২৫৮ কোটি টাকা। টানা পাঁচ দিনে লেনদেন বেড়ে গতকাল লেনদেন হয়েছে ৪৮২ কোটি টাকা। এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে অ্যাপোলো ইস্পাতের অর্থ সংগ্রহের অনুমোদন স্থগিত করেছে। এ নিয়ে বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ডিএসই’র তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ২৫৩ পয়েন্ট, সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৩৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫৩৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৮২ কোটি ৭২ লাখ ৯৭ হাজার ৪৮৪ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৬৯টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ৮৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮টি কোম্পানির শেয়ারের। ২৬৯টি কোমপানির ১১ কোটি ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৭০৫টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের হাত বদল হয়েছে।
গত মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অ্যাপোলো ইস্পাতের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএসইসি জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানিটির আইপিওর চাঁদা গ্রহণ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কোম্পানিটির বেশকিছু বিষয় অধিকতর তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী সমপ্রতি কোম্পানিটি সম্পর্কে বিএসইসির চেয়ারম্যানের কাছে একটি চিঠি দেন। এতে তিনি কোম্পানিটির বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তদন্তের কথা বলেন এবং আইপিও স্থগিতের পরামর্শ দেন। এরই প্রেক্ষিতে বিএসইসি অ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়। গত ১৩ ডিসেম্বর কমিশনের সভায় কোম্পানিটির আইপিও প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্তির পর কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। আইপিও প্রস্তাব অনুযায়ী, অ্যাপোলো ইস্পাত ১০ কোটি শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ২২০ কোটি টাকা সংগ্রহ করার কথা ছিল। যা আগামী ৩ মার্চ থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত এই অর্থ সংগ্রহ করতো। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১২ টাকা অধিমূল্য বা প্রিমিয়াম যোগ করে আইপিওতে প্রতিটি শেয়ারের বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২২ টাকা।
