তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা শিল্পায়নে শ্রমিক-মালিক এবং স্টেক হোল্ডারদের একজোট হয়ে কাজ করার আহবান জানিয়েছেন। তারা বলেন, ‘আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানা তাজরিন ফ্যাশনে আগুন লাগার পর বিশ্বখ্যাত কোম্পানি ওয়ালমার্ট সেখানে কর্মপরিবেশ না থাকার অজুহাত তুলে কোন প্রকার সহযোগিতা তো করেইনি, বরং ঘটনার আগে শিপমেন্ট হওয়া পণ্যের বিল পর্যন্ত আটকে দিয়েছে। এসব বায়ারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে এ শিল্প সংশ্লি¬ষ্টদের একটি প¬্লাটফর্মে এসে দাঁড়াতে হবে।’ গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশন এবং আওয়াজ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের রফতানিকারক তৈরি পোশাক শিল্প-কারখানায় নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূলকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এসব কথা বলেন।
বিজিএমইএ’র সভাপতি মো. সফিউল আলম মহিউদ্দিন আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় বলেন, ‘তাজরিন ফ্যাশন গার্মেন্টসে নিহতদের ফিরিয়ে দেয়া যাবে না। তবে নিহতদের পরিবারগুলো যেন চলতে পারে সেজন্য বিজেএমইএ উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে স্টেক হোল্ডার ওয়ালমার্ট কোনভাবেই তার দায় এড়াতে পারে না।’ এসব অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তিনি পোশাক শিল্পে সংশ্লি¬ষ্টদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যে সকল অসম্ভবকে সম্ভব করার দেশ তা শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আবারো প্রমাণিত হলো। সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় ব্যাপক আকারে দেখা দিলেও তরুণদের দেশাত্মবোধ সবাইকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।
বর্তমান বিশ্বকে তিনি পুরুষশাসিত ‘এনিমেল ওয়ার্ল্ড’ আখ্যায়িত করে বলেন, এখনও পৃথিবীর বহু জায়গায় নারীরা শোষণ ও বঞ্চনার শিকার। অবশ্য আশার কথা যে, বাংলাদেশে অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নেদারল্যান্ডস্থ ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের ভেরিফিকেশন কো-অর্ডিনেটর জুলিয়েট লি।
মূল প্রবন্ধে তিনি তার সংগঠনের কাজের পরিধি, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, নারী শ্রমিকদের জন্য যথাযথ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাসহ আন্তর্জাতিক শ্রম আইনের আলোকে শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে আলোকপাত করেন।
আওয়াজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাজমা আক্তারের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরো অংশ নেন বিকেএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, এএমআরএফ-এর নির্বাহী পরিচালক রিয়াজ উদ্দীন, নেদারল্যান্ড থেকে আগত ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা এরিকা ভেন ড্রন প্রমুখ।
এছাড়া প্রশো্নত্তরপর্বে বিভিন্ন গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠন নেতৃবৃন্দ, তৈরি পোশাক শিল্প মালিক, এনজিওকর্মী এবং মানবাধিকারকর্মিগণ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে এ শিল্প সংশ্লি¬ষ্ট সকল মহলকে একযোগে কাজ করতে হবে, বিশেষ করে মালিকদেরকে অধিক দায়িত্ব নিতে হবে। তাদেরকেই শ্রমিকদের কর্মপরিবেশের উন্নতি ও নিরাপত্তার ব্যাপারে নজর দিতে হবে।
