এক মুক্তিযোদ্ধার উচ্চারণ

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:১৩
একটা পতাকার জন্য আমার দু-চোখ ভরা নদী। একটা উজ্জ্বল ভোরের জন্য আমার বুকের মধ্যে উথলে ওঠা আশা আর আবেগের অগ্নি আমি অগ্নি ও অশ্রুর কথা বলতে বলতে এতটা পথ এলাম কিন্তু একজন নিবিষ্ট শ্রোতা পেলাম না, যে বলতে পারবে এই শাশ্বত স্মৃতি। আমি দেখেছিলাম হেমিলনের আশ্চর্য সম্মোহক এক বাঁশিওয়ালাকে— যিনি একটা দেশকে কোটি কোটি সবুজ পাতায় রূপান্তর করে তাতে ফুল আর ফসলের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছিলেন এবং বয়স নির্বিশেষ একদিন আমরা সবাই উত্তাল আবেগে মৃত্তিকার জন্য ভালোবাসার পরীক্ষা দিলাম। আমি এই আশ্চর্য সম্মোহক বাঁশিওয়ালা অবিস্মরণীয় কিংবদন্তি পুরুষের কথা বললাম, যুদ্ধ আর ভালোবাসা কেমন করে এক হয়ে যায় তা-ও বললাম এই দীর্ঘ পথ হেঁটে হেঁটে। আজ দেখি সেই শ্রোতাদের কেউ আর স্মরণ করতে পারছে না স্মৃতি কিংবা আমাকে। আমি চলে যাচ্ছি আমার এই বিষণ্ন বিদায়-মুহূর্তে শুধু এই দীর্ঘশ্বাস—ও আমার ভাবীকালের প্রিয় স্বজন, তোমাদের সঙ্গে হয়তো আমার দেখা হবে না, তোমরা হয়তো বিস্ফোরণের কুয়াশায় মুছে ফেলবে বহু কিছু তোমাদের সঙ্গে মিশে যাবে ঘাতক এবং পতাকাবিনাশী কুচক্রীরা। তবু উথলে ওঠা আশা আর আবেগের নদী আমার মরবে না, যদি তোমরা যাও স্মৃতিসৌধ আর প্রতিটি বধ্যভূমির কাছে অন্তত একবার।