মেহজাবিনের সঙ্গে সম্পর্কটা একেবারেই ফ্রেন্ডলি

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৬
নিরব। এ সময়ের চলচ্চিত্রের অন্যতম চিত্রনায়ক। একজন মডেল হিসেবেই তার শুরু এবং খ্যাতি অর্জন। নাটকেও নিজের অভিনয় গুণের প্রমাণ রেখেছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক হিসেবেও বড় পর্দায় তার আগমন। নিজের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা, সারিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের ভাঙা-গড়া এবং মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান আপনার বর্তমান ব্যস্ততা সম্পর্কে বলুন? ‘গেম’-এর শুটিং করছি, পূবাইলের আউটডোর এবং ঢাকার আশপাশের কাজ করছি। এর স্ক্রিপ্ট হচ্ছে জাকারিয়া সৌখিনের, আর ডিরেকশন দিচ্ছে রয়াল ও অনিক। দেশের বাইরে শুটিং হওয়ার কথা ছিল কিন্তু কিছু মানুষের ভিসা জটিলতার কারণে আমাদের পুরো টিমটাই যেতে পারছি না। তাই বিদেশের ওই সিক্যুয়েন্সগুলো বাদে বাকিগুলোর শুটিংয়ের কাজ করছি। প্রথম লটের শুটিং শেষ। খুব শীঘ্রই দ্বিতীয় লটের শুটিং করব, এটি জঙ্গলে ধারণ করা হবে। এই ছবিতে আমিসহ আরও কাজ করছেন অমৃতা, প্রমিথিউস ব্যান্ডের বিপ্লব, মুকিত ও ইরফান খান। ‘পদ্মা পাড়ের পার্বতী’র শুটিং করলাম। ১৬ থেকে ১৮ তারিখেও এটির শুটিং আছে। তারপর পহেলা মার্চ আমার ‘মনের অজান্তে’ ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। এটির পরিচালক জাকির খান। শাহীন কবির টুটুলের ‘এইতো ভালোবাসা’ সেন্সর হয়ে গেছে, এটিও মার্চে মুক্তি পাবে। শুনতে পাচ্ছি, ‘পরবাসিনী’-তে আপনি এখন আর প্রধান চরিত্রে নেই। ‘পরবাসিনী’র ৭ দিন শুটিং করেছি আমি ও মেহজাবিন। এর পরবর্তীতে আর কোনো কাজের খবর নেই, কবে হবে এরও কোনো আইডিয়া নেই। চরিত্রটি ফেলে দেওয়া হয়েছে কিনা সেটাও বুঝতে পারছি না। আমাদের পরিচালক কখন কী বলেন তার কিছুই বুঝছি না। ইমনকে ঢোকানোর পরেই মেইন ঝামেলাটা হয়েছে। যখন শুরু হয় তখনকার গল্প ছিল একরকম, কিছু শুটিংও করি, তারপর যখন ইমনকে ঢোকানো হয়, তখন আমি ও মেহজাবিন কনফিউজড হয়ে যাই। পরে যখন গল্পটার শুটিং হয় তখন এই ক্যারেক্টারের হদিসও পাইনি। পুলিশ ইন্সপেক্টরের ক্যারেক্টার দেওয়া হয় ইমনকে। ভাবলাম ইমন এত ছোট ক্যারেক্টার কেন করবে, এই চরিত্রে তো কিছুই নেই। পরে জানতে পারলাম আমাকে পরিচালক একরকম আর ইমনকে আরেকরকম বলছে। পরিচালকের কথায় অনেক ঝামেলা পাচ্ছি, পুরো বিষয়টা নিয়ে অনেক বিভ্রান্তিতে আছি। পরিচালক এখনও আমাকে বলে যে, মামা আমি তোমাকে যেইভাবে গল্প বলেছি, গল্প এখনও সেটাই আছে, এই আছে... সেই আছে। কিন্তু একেক জায়গা থেকে একেক রকম শুনছি। মেহজাবিন ও আমি কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি না। ইমনের সাথে কাজ করা নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই, মাথাব্যথা হচ্ছে পুরো ফিল্ম নিয়ে আমাদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে। এখন এটার যেই প্রডিউসার ছিল, তিনিও ইনভলভ নেই। তার সাথেও পরিচালকের ঝামেলা হয়েছে। এবারের ভ্যালেন্টাইনটা কীভাবে কাটালেন? সারাদিন ঘুমিয়েছি, তারপর এশিয়ান টিভির শুটিং করে ফিরলাম। টানা কিছুদিন শুটিং করে শরীরের একেবারে কাহিল অবস্থা। সম্পর্কে তো মান-অভিমানের বিষয় থাকে, সারিকার সঙ্গে পুনরায় সম্পর্ক গড়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনা আছে কী? একদম নেই, আসলে নিজেদের মধ্যে বুঝাপড়ার অনেক ঝামেলা আছে। এটা আর হবে না। তাহলে বছরখানেক আগে কোনো এক প্রেমিকের সঙ্গে কক্সবাজার সারিকার পালিয়ে ঘোরাটা কি সত্য ছিল? এটা সত্য হতেও পারে। আসলে তখন থেকেই ওর সঙ্গে আমার সম্পর্ক তেমন ভালো নেই। প্রায় দেড় বছর ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কের এই অবস্থা। আর যেহেতু মিডিয়াতে কাজ করছি তাই বলেছিলামও নিজেদের রিলেশনটা ঠিক করি। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। তার প্রতি আমার ক্ষোভ নেই। পরবর্তীতে মেহজাবিনকে নিয়েও আপনার সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে, এই বিষয়টি সম্পর্কে বলুন। এই গুঞ্জনটাও একটা বড় গুঞ্জন, এটা খুবই হাস্যকর। মেহজাবিনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক একেবারে ফ্রেন্ডলি, হাসি-ঠাট্টায় সময় কাটাই আমরা। আমাদের রিলেশন এতটুকুই। এই গুঞ্জনটা শুনলেও আমার হাসি পায়। তারকাদের প্রেম স্থায়ী থাকে না কেন বলে আপনার মনে হয়? তারকাদের প্রেম বলে প্রেম নেই, প্রেম তো প্রেমই। বিষয় হচ্ছে তারকাদের রিলেশন হলে সবার মধ্যে জানাজানি হয়, ছাড়াছাড়ি হলেও সবার মধ্যে জানাজানি হয়, এই কারণে এটাকে অনেক বড় বিষয় বা বড় প্রেম বলে মনে হয়। আমার এক কাজিনের যদি পঞ্চাশবারও ব্রেকআপ হয় তা কি কেউ জানছে, তাই ওটা কোনো বিষয় না। কিছুদিন আগে এফডিসিতে এক সভায় আলোচনা হয় দুই বাংলার যৌথ উদ্যোগে অভিনয়শিল্পী ও নির্মাতারা কাজ করবেন। এটি কার্যকর হলে কেমন হবে বলে আপনার মনে হয়? এটার পজেটিভ ও নেগেটিভ সব দিকটাই দেখি। কম্পিটিশন যদি করা যায়, সেক্ষেত্রে আমরাও তাল মিলিয়ে চলা শিখব। আমাদের মুভির গল্পও অনেক সময় বলি যে কপি করা। অনেক সময় মৌলিক গল্পও মিলে যায়। গল্পটা নিয়ে ভালো কিছু করতে চাই, আর কম্পিটিশন থাকলে কাজটা ভালো হয়। আর কম্পিটিশনের জন্য গল্পটা সবচেয়ে বেশি স্ট্রং দরকার। বাজেট একটা বড় ফ্যাক্ট।