দখল আর দূষণে বিপন্ন কক্সবাজারের পুকুর

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫১
কক্সবাজার শহরে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটি দীঘি ও বড় পুকুর আছে। এসব দীঘি শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ছাড়াও জনসাধারণের নিত্য-নৈমিত্তিক প্রয়োজন এবং অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিন্তু দখল আর দূষণে এসব দীঘি ও পুকুর এখন বিপন্ন। পরিবেশবাদীদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এসব দীঘিসমূহকে দখল ও দূষণমুক্ত করে সংরক্ষণ করা হোক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহরে একসময় শতাধিক ছোট-বড় পুকুর ছিল। এরমধ্যে কয়েকটি পুকুর ছিল আয়তনে বেশ বড়। কিন্তু জমির দাম আকাশচুম্বি হওয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুরসমূহ ভরাট করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এখন বড় পুকুরগুলোর মধ্যে টিকে আছে পৌরসভার মালিকানাধীন লালদীঘি, গোলদীঘি, বাজারঘাটা নাপিতের দীঘি এবং প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানাধীন টেকপাড়া বড় পুকুরসহ আরও ছোট-খাট কয়েকটি পুকুর। কিন্তু দখল আর দূষণে এসব দীঘি এখন বিপন্ন। পরিবেশবাদী সংগঠন কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা জানান, পরিবেশের স্বার্থে শহরের জলাধার হিসাবে বিবেচিত পুকুরসমূহ রক্ষা করা দরকার। কিন্তু আমরা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছি এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত পৌরসভার মালিকানাধীন লালদীঘি, গোলদীঘি, বাজারঘাটা নাপিতের দীঘিসহ বিভিন্ন দীঘি দখল করে নিচ্ছে। ইতোমধ্যে লালদীঘির দক্ষিণ পাড় জবরদখল করে সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সমিতির নামে বাজারঘাটা নাপিতের পুকুরও জবরদখল করে নেয়া হচ্ছে। দখলের কবলে পড়েছে গোলদীঘিও। শুধু তাই নয়, এসব পুকুরের পাড়ে অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে ময়লা-আবর্জনা ফেলে পানি দূষিত করা হচ্ছে। কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানায়, শহরের কোথাও কোন অগ্নিকাণ্ড ঘটলে পানির সংকট দেখা দেয়। দীঘির আশেপাশে ছাড়া অন্য কোথাও অগ্নিকাণ্ড ঘটলে আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না। কক্সবাজার পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাজ বিহারী দাশ বলেন, আগের মেয়র/চেয়ারম্যানের কাছ থেকে লিজ নিয়েই পুকুর পাড়ে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি পুকুরের পানি দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।