নড়াইল ও নাসিরনগরে পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৬
নড়াইলের পল্লীতে পুলিশ পরিচয়ে ঘরে ঢুকে ১০ বছরের শিশুকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ ৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করেছে সশস্ত্র ডাকাতরা। এসময় বাধা দিতে গিয়ে পিতা-পুত্রসহ ৩ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় তাদেরকে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ধর্ষ এ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাত দেড়টার দিকে সদর উপজেলার চালিতাতলা গ্রামে সুনিল বোসের বাড়িতে। হাসপাতালে চিকিত্সাধীন নিত্যানন্দ বোস নিতু (৪০) জানান, ১২/১৪ জনের একদল সশস্ত্র ডাকাত তাদের বাড়িতে ঢুকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ঘরের দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলার পর আগ্নেয়াস্ত্রের মুখে তার ১০ বছর বয়সের শিশু পুত্রকে জিম্মি করে এবং তাকে ও তার বাবা সুনিল বোসকে (৯০) কুপিয়ে জখম করে। এসময় প্রতিবেশী শংকর পাল (৫৫) এগিয়ে এলে ডাকাতরা তাকেও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। ডাকাতরা ১১ ভরি স্বর্ণালংকার ও জমি বিক্রির নগদ প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। নড়াইল সদর থানার ওসি মতিয়ার রহমান ডাকাতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নাসিরনগর সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের পল্লীতে মিলনপুর গ্রামে অসহায় ও দিনমজুর পরিবারের ২৩টি ঘরে বুধবার গভীর রাতে পুলিশ পরিচয়ে গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ ডাকাতরা কয়েকজন পুরুষকে বেঁধে একটি ঘরে আটকে রেখে জিম্মি করে। ডাকাতের হামলায় শিশু ও মহিলাসহ প্রায় ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত রহমত আলী (৪০), আসমা বেগম (২৫), মুরাদ মিয়া (৪০) ও ফরছু মিয়াকে (৩০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজ্বী জামাল মিয়া মিলনপুর গ্রামে গণডাকাতির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এলাকা পরিদর্শন করে দেখেছি অসহায় ও দিনমজুর পরিবারের ২৩টি ঘরে ডাকাতরা এ তাণ্ডব চালিয়েছে। নাসিরনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবদুল কাদের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানায়, ডাকাতির সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।