ইউনাইটেড ও মাদ্রিদের ফয়সালা হবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৭
ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সফল দুটি দল মুখোমুখি হলে লড়াইয়ের চাপ খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী রিয়াল মাদ্রিদ ও ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ফুটবল শক্তি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড গত বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবলের শেষ ষোলর প্রথম লেগে দুর্দান্ত লড়লেও জিতেনি কেউ। সান্তিয়াগো বার্নাবুতে বহুল প্রতিক্ষিত এই ম্যাচটিতে লড়াকু ফুটবল উপভোগ করে সমর্থকরা। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে অ্যালেক্স ফার্গুসনের দল ১-১ গোলের ড্র নিয়ে ফিরেছে। এ রাতে অনুষ্ঠিত অপর খেলায় জার্মান চ্যাম্পিয়ন বরুশিয়া ডর্টমুন্ড স্বাগতিক শাখতার দোনেতস্কের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো অবশ্য তার সাবেক ক্লাব ইউনাইটেড বলে গোল শোধ করেও তা উদযাপন করেননি। রেড ডেভিলরা ম্যাচের ২০ মিনিটে ড্যানি ওয়েলবেকের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল। ওয়েইন রুনির কর্নার থেকে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন তরুণ তুর্কি ওয়েলবেক। মাদ্রিদের গোলরক্ষক দিয়েগো লোপেজ ছিলেন হতাশ দর্শক। দশ মিনিটের মধ্যেই দারুণ নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনার দুরন্ত গতির খেলোয়াড় অ্যাঙ্গেল ডি মারিয়া বল পেয়ে যান। তার বাঁকানো শটটি খুঁজে নেয় রোনালদোকে। শূন্যে লাফিয়ে উঠে অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় বলকে জালে জড়িয়ে দেন পর্তুগাল অধিনায়ক রোনালদো। দারুণ গতির ফুটবল উপহার দিয়ে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। এরপর শুরু হয় আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ। তবে ইউনাইটেড গোলরক্ষক ডেভিড গিয়ার দারুণ প্রচেষ্টায় সফরকারীদের বিপাকে পড়তে হয়নি। তিনি বিপক্ষের কয়েকটি গোল প্রচেষ্টা নস্যাত্ করে দেন। চরম উত্তাপের এই ম্যাচটির দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো ফুটবল দুনিয়া। ফুটবলামোদীদের নজর ছিল রোনালদোর দিকে। ২০০৯ সালে বিশ্ব রেকর্ড গড়া ট্রান্সফার ফিতে রোনালদো ম্যানচেস্টার থেকে মাদ্রিদে এসেছিলেন। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে এই প্রথম খেলতে নেমে প্রথম সুযোগেই পেলেন গোল। এই ম্যাচটির মাঝে আরো কিছু লড়াই ছিল। নেদারল্যান্ডসের রবিন ফন পার্সি ও রোনালদোর লড়াই দেখতে চেয়েছিল সবাই। রোনালদো গোল করলেও পার্সি পারেননি। তার কয়েকটি প্রচেষ্টা বৃথা গেছে, একটি তো বারে লেগে ফিরে আসে। লড়াই ছিল দুই কোচেরও। মরিনহো চাইছেন লা লিগা চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ইউরোপিয়ান শিরোপার সংখ্যা দশে বাড়াতে। অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ দলটির কোচ ফার্গুসনের লক্ষ্য চতুর্থ শিরোপা জয়। রিয়াল মাদ্রিদ সর্বশেষ ইউরোপিয়ান শিরোপা জিতেছিল ২০০২ সালে। রেড ডেভিলরা একই অর্জন সম্ভব করে তারও চার বছর আগে। ইউনাইটেড এই ফলাফলে কিছুটা এগিয়ে থাকলো। কারণ প্রতিপক্ষের মাঠে তারা গোল করে এসেছে। শেষ আটে যাওয়ার লড়াইটা সঙ্গত কারণেই এখন কঠিন হয়ে পড়লো মরিনহো বাহিনীর। ফিরতি লেগ ম্যাচ ম্যানচেস্টারে আগামী ৫ মার্চ। কোচ মরিনহো এরপরও আশাবাদী যে তার দল ওল্ডট্র্যাফোর্ডে ফিরতি লেগে এক গোলের বেশি করতে পারবে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফুটবলে চলতি মৌসুমে সর্বাধিক গোল রোনালদোর। সাত ম্যাচে সাত গোল করেছেন তিনি। অনভিজ্ঞ এক খেলোয়াড় থেকে রোনালদো বিশ্ব দরবারে আলো ছড়িয়েছিল ইউনাইটেড থেকে। ফার্গুসনের দলে ছিলেন ছয় বছর। রোনালদো ম্যাচ শেষে বলেন, ‘সেটা এমন জায়গা যেখানে ছয় বছর খেলেছি। এই ক্লাবটির প্রতি আমার দুর্বলতা রয়েছে এটা সবাই জানে।’ ২৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড আরো বলেন, ‘ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ কঠিন হওয়ায় আমাদের সমস্যা হয়েছে। তবে আমরা সুযোগ পেয়েছি আরো গোলের। ওল্ডট্র্যাফোর্ডের লড়াই উম্মুক্তই থাকছে। আমি মনে করি আমাদের সেখানে গোল করার সামর্থ্য রয়েছে। ’ ম্যাচের পরিসংখ্যান রিয়াল মাদ্রিদ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ২৮(৮) শট (গোলে) ১৩(৬) ১৪ ফাউল ১২ ১২ কর্ণার কিক ৯ ০ অফ সাইড ৩ ৬১% বল দখল ৩৯% ০ হলুদ কার্ড ৩ ০ লাল কার্ড ০ ৫ সেভস ৭ বুধবারের ফল, শেষ ষোলো, প্রথম লেগ রিয়াল মাদ্রিদ (রোনালদো ৩০ মি.) ১ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড (ওয়েলবেক ২০ মি.) ১ শাখতার দোনেতস্ক (সেরনা ৩১, কস্টা ৬৮ মি.) ২ বরুশিয়া ডর্টমুন্ড (লিওয়ানডস্কি ৪১, হিউমেলস ৮৭ মি.) ২