প্রায় শত বছরের পুরাতন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের বৃহত্তম ও সবচেয়ে ব্যস্ততম ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ও ইয়ার্ডে আধুনিকায়নের ছোঁয়া লাগেনি। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহারে এবং এলাকার সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শরীফ ডিলু কর্তৃক বিষয়টি জাতীয় সংসদে উপস্থাপন হলে রি-মডেলিং করার প্রতিশ্রুতিদানের পরও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ১৮৬২ সালে অবিভক্ত ভারতবর্ষে ট্রেন চলাচল প্রথম ঈশ্বরদীতে শুরু হয়। সে সময় স্টেশন ছিল পাকশীস্থ পদ্মা নদীর তীরে সাঁড়াঘাটে। ১৯১০ সালে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের জন্য পাকশীতে পদ্মা নদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রীজের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯১৫ সালে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সরাসরি যোগাযোগের কেন্দ্র বিন্দু হিসেবে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্থাপিত হয়। প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ইয়ার্ড ও প্লাটফর্মে ১৭টি রেললাইন স্থাপন করা হয়। ঈশ্বরদী স্টেশন এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণকালে পাকশী পদ্মার পাদদেশে গড়ে তোলা হয় পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অফিস।
বর্তমানে এই স্টেশন দিয়ে ২৪ ঘন্টায় ২৬টি যাত্রীবাহী ট্রেন ও ১২টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। এগুলোর মধ্যে ১৬টি আন্তঃনগর, ৬টি মেইল ট্রেন ও ৭টি লোকাল। ৪টি প্লাটফর্ম বিশিষ্ট রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি পরিচালনার জন্য বর্তমানে ১৯টি বিভাগে প্রায় ২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এখানে বিশ্রামাগার, টয়লেট ও ফুটপাত দখল করে থাকে হকার, চোরাচালানী ও বখাটেরা। বিদ্যুত্ ও পানির সমস্যা সব সময়ই রয়েছে।
সন্ধ্যার পর বদলে যায় প্ল¬াটফর্মের দৃশ্যপট। আইন-শৃঙ্খলার যথেষ্ট অভাব রয়েছে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ও ইয়ার্ড জুড়ে। প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঈশ্বরদী জংশন স্টেশন ও ইয়ার্ড মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাচালানীদের দখলে । নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত কতিপয় সদস্য এদের সব সময় সহযোগিতা করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। টিকেট বিক্রির কাউন্টার সংলগ্ন টেম্পু স্ট্যান্ড, মালগুদাম, আই ডাব্লি¬উ অফিস, সাউথ কেবিন এলাকা, পি ডাব্লিউ আই অফিস এলাকা, কলাবাগান ও লোকোশেড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মদ, গাঁজা, ফেনসিডিল, হেরোইন ও চুয়ানি বিক্রি হচ্ছে। অথচ দেখার কেউ নেই। ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লে¬খ ছিল, ঈশ্বরদীর জংশন স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা হবে। সমপ্রতি ১ ও ২ নং প্লাটফর্মের টিন সেড সমপ্রসারণ ও পুরাতন টিন কিছু কিছু স্থানে বদলানো হলেও ত্রুটিপূর্ণ কাজের জন্য এখনও বৃষ্টির পানি পড়ে। ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনের নির্বাচিত সাংসদ শামসুর রহমান শরীফ (ডিলু) বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানান। জাতীয় সংসদে ঈশ্বরদী জংশনটি রি-মডেলিংয়ের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় ঈশ্বরদীবাসী চরম হতাশ।
