জয়দেব অনেক স্বপ্ন নিয়ে ৫৪ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান লাগিয়েছেন। আর কয়েক দিন পর গোলায় ধান তোলার কথা ছিল। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পুড়ে গেলো ইটভাটার আগুনে। জমির পাশে অবস্থিত এএফএইচ নামের ইটভাটার ধোয়ায় পুড়ল তার ফসলের মাঠ।
জয়দেব আদিতমারী উপজেলার দেওডোবা গ্রামের বাসিন্দা। শুধু জয়দেব নন, ওই গ্রামের কৃষক মতিয়ার রহমান, মশিয়ার, ফজলুল হক, দবিয়ারসহ প্রায় ২০ জন কৃষকের স্বপ্ন পুড়িয়েছে ওই ইটভাটাটি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রায় ২০ বিঘা জমির ফসল পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাছপালা ও সবজির বাগান। ফসলের ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছে এসব কৃষক পরিবার। তারা দ্রুত ইটভাটা বন্ধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
জানা গেছে, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের দেওডোবা গ্রামে এএফএইচ নামের একটি নতুন ইটভাটা রয়েছে। প্রথম থেকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইটভাটা বন্ধের দাবি করে আসছিল এলাকাবাসী। কিন্তু কতিপয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে ইটভাটাটি চালু করা হয়। ভাটার চালু পর থেকে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুললেও প্রশাসনের সঠিক নজরদারী না থাকায় কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছেন না ভাটার মালিক ফারুক হোসেন।

এদিকে ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলের ক্ষতি ছাড়াও আম, কাঁঠাল, লিচুসহ পুড়ে গেছে বাঁশ ঝাড়। ধোঁয়া বন্ধ হলেও বিষাক্ত রাসায়নিক বিক্রিয়ায় এখনও নতুন ফসলের ক্ষেতসহ গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, কয়েকদিন আগে তারা লক্ষ্য করেন ফসলের ক্ষেত পুড়ে যাচ্ছে। ধানের গাছও পুড়ে গেছে এবং বাড়ির চারপাশের আম-কাঁঠাল গাছের পাতা কুঁকড়ে গেছে। ফল ঝরে পড়েছে। বিষয়টি ইটভাটার মালিককে জানালে তিনি টালবাহনা করেন। একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে বসার কথা থাকলেও এতে কান দিচ্ছেন না ভাটার মালিক।
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান ইত্তেফাককে জানান, কয়েকদিনের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: হাজীগঞ্জে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে এএফএইচ নামের ইটভাটাটি। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও নেই কোনো সুপারিশ।
ভাটার মালিক মো ফারুক হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
ইত্তেফাক/অনি
