মূত্রনালী সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়া

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৫০
ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার হলো মূত্রনালী সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়া। এই সঙ্কীর্ণতা ঘটে আঘাত বা রোগ যেমন মূত্রপথের সংক্রমণ বা মূত্রনালীর প্রদাহের কারণে। ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের প্রাথমিক স্তরে রোগীর প্রস্রাবের সময় ব্যথা করে এবং প্রস্রাব করার পর মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি হয় না। ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার প্রস্রাবের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ঘটাতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রস্রাব আটকে যায়, তখন জরুরি চিকিত্সার প্রয়োজন হয়। কারণ স্ট্রিকচার মূত্রথলি থেকে পুরুষাঙ্গের মাথা পর্যন্ত যেকোনো স্থানে হতে পারে। স্ট্রিকচারের সাধারণ কারণের মধ্যে রয়েছে মূত্রনালীতে আঘাত এবং মূত্রপথের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণ। সাধারণ কথায় ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের কারণগুলো হলো: ++মূত্রনালী বা পুরুষাঙ্গে আঘাত। ++আঘাতজনিত পেলভিক ফ্রাকচারের সাথে সম্পৃক্ত মূত্রনালীতে আঘাত যেমন-মোটরগাড়ি দুর্ঘটনা, পড়ে যাওয়া, কলকারখানায় আঘাত ইত্যাদি। ++পায়ু এলাকায় সরাসরি আঘাত। ++বারবার প্রস্রাবের পথে সংক্রমণ। ++যৌনবাহিত রোগ। ++লাইচেন স্ক্লোরোসিস (ব্যালানাইটিস জেরোটিকা অবলিটারেনস বা বিএক্সও) মূত্রনালী ও পুরুষাঙ্গের জন্মগত অস্বাভাবিকতা। ++শল্য চিকিত্সা ++মূত্রনালী রোগের পূর্ব চিকিত্সা যেমন- মূত্রনালী সরু হওয়া বা মূত্রনালীতে ক্যান্সার। ++মূত্রনালী ও পুরুষাঙ্গে জন্মগত অস্বাভাবিকতার (হাইপোসপেডিয়াস, করডি, এপিসপেডিয়াস) জন্য পুনর্গঠন সার্জারি। ++আগে প্রস্রাবজনিত অপারেশন। যদি ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচারের ঠিকমতো চিকিত্সা করা না হয় তাহলে মূত্রনালীতে টান পড়ার কারণে মূত্রথলির মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এর কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন- প্রস্রাব আটকে যাওয়া (প্রস্রাব করতে অক্ষমতা), প্রস্রাব ঝরতে থাকা, প্রস্রাবের পথে প্রদাহ বা সংক্রমণ, রিফ্লাক্স (প্রস্রাব কিডনিতে ফিরে আসা) এবং কিডনির কার্যকারিতা লোপ পাওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। উপসর্গ ++প্রস্রাব করার সময় ব্যথা করা ++প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া ++প্রস্রাবের পরিমাণ কম হওয়া ++দু’নালে প্রস্রাব হওয়া ++প্রস্রাবের সাথে রক্ত পড়া ++পেটে ব্যথা ++মূত্রনালী পথে নিঃসরণ ++অল্প অল্প প্রস্রাব হওয়া ++ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ++প্রস্রাব হঠাত্ আটকে যাওয়া কিংবা দীর্ঘমেয়াদি আটকে যাওয়া ++পেছন দিকে চাপের কারণে কিডনি বড় হওয়া রোগ নির্ণয় ++ইউরেথ্রোস্কপি ++ইউরেথ্রোগ্রাফি চিকিত্সা ইন্সট্রুমেন্টাল চিকিত্সা ++ইন্টারমিটেন্ট ডাইলেটেশন (প্রথমে সপ্তাহে দু’বার, এরপর সপ্তাহে একবার, মাসে একবার, এরপর প্রতি বছরে একবার)। ++অবিরাম ডাইলেটেশন শল্যচিকিত্সা ++ইন্টারনাল ইউরেথ্রোটমি ++ইউরেথ্রোপ্লাস্টি জটিলতা ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার চিকিত্সা না করালে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়, যেমন- ++প্রস্রাব আটকে যাওয়া ++মূত্রনালীতে আরেকটি পথতৈরি হওয়া ++মূত্রনালীতে পুঁজ হওয়া ++মূত্রনালীতে ফিস্টুলা হওয়া ++কিডনি বড় হওয়া ++প্রস্রাবে সংক্রমণ হওয়া ++প্রস্রাবের পথে পাথর হওয়া ++চাপ দেয়ার কারণে হার্নিয়া, হেমোরয়েড হওয়া কিংবা মলনালী বেরিয়ে আসা।