বিদ্যাদেবীর কৃপালাভের আশায় গতকাল শুক্রবার রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ঘরে ঘরে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। জগন্নাথ হলে ৫৭টি পূজা মণ্ডপে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পূজার আয়োজন করেন। সকালে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও জগন্নাথ হলে পূজা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল দিনভর। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা পূজামণ্ডপকে সাজাতে তাদের সৃষ্টিশীল চিন্তার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন। ইতিহাস বিভাগ তাদের পূজা মণ্ডপে বেশ কয়েকটি সংগ্রামী শ্লোগানের সাথে সাথে বজ্রমুষ্ঠিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ ধরনের পূজা মণ্ডপের ধারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে পূজাকমিটির মিঠুন সাহা ও ইমরান হাবিব বলেন, সংগ্রামের মাধ্যমে ভাষার অধিকার পেয়েছি। স্বাধীন হয়েছি। সর্বশেষ শাহবাগে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জোরালো করে তুলেছে বজ্রমুষ্ঠির হাত।
ইনফরমেশন টেকনোলোজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পূজা মণ্ডপ সাজাতে গুগল এর লোগোকে ব্যবহার করেছেন। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পূজা মণ্ডপ তৈরি করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের আদলে।
সূত্রাপুর থেকে ছেলে মেয়েকে নিয়ে পূজা দেখতে এসেছিলেন রমেশ সরকার। পূজার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বললেন, এখানে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা কীভাবে তাদের সৃষ্টিশীলতাকে প্রকাশ করছে সেসব বিষয় সম্পর্কে বাচ্চাদের সাথে কথা বলি। সেই সাথে এখানে এসে পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে পড়ে।
সকাল ৬টায় প্রতিমা স্থাপনের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিদ্যার দেবীকে দুধ, মধু, দই, ঘি, কর্পূর, চন্দন দিয়ে স্নান করানো হয়। সকাল নয়টার দিকে শুরু হয় বাণী অর্চনা। সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে, বিশ্বরূপে বিশালক্ষী বিদ্যাংদেহী নমস্তুতে মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে পুরোহিতরা পূজার আচার শুরু করেন এবং ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি দেন। দেবীর সামনে ‘হাতে খড়ি’ দিয়ে শিশুদের বিদ্যাচর্চার সূচনা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং কলেজ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজসহ সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়।
