মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সআরএস) শুক্রবার তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতকেই রুখতেই পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বাড়াচ্ছে। তাদের এ অস্ত্রের সংখ্যা বর্তমানে ৯০ থেকে ১১০ কিংবা তারও বেশি। এই তথ্যটি ওই সংস্থা যেদিন প্রকাশ করেছে ঠিক সেদিনই পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে উেক্ষপণ করেছে পাকিস্তান। স্বল্পপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র হাতফ-টু বা আবদালি ১৮০ কিমি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। খবর বর্তমান পত্রিকার।
মার্কিন কংগ্রেসের কাছে পেশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান পরমাণু অস্ত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমাঝোতা করেই চলতে চায়। এতে আরো জানানো হয়, পরমাণু অস্ত্রের পাশাপাশি তা বহন করতে বা কার্যকর করতে সক্ষম অন্যান্য উপকরণও একইসঙ্গে তৈরি করেছে পাকিস্তান। ২০০৮ সালে ভারত-মার্কিন পরমাণু চুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান যে তাদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে, সে বিষয়ে কোন সংশয়ের অবকাশ রাখা হয়নি ওই প্রতিবেদনে। এতে আরো বলা হয়েছে, প্রকাশ্যে এখনও পরমাণু তথ্য ভান্ডার প্রকাশ করেনি পাকিস্তান। তবে ভারত যাতে পাকিস্তানকে আক্রমণ না করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ‘পাকিস্তান নিউক্লিয়ার উইপেনস : প্রলিফারেশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইস্যু’-নামক ৩০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে মার্কিন আইনসভার সদস্যদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দু’ভাবে এইসব পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে। তাদের বিমান বাহিনী এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে এটি ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও তারা ব্যবহার করতে পারে।
এদিকে এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ,গত চারদিনে হাতফ-টু ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দ্বিতীয় সফল পরীক্ষা। তবে এটি সফল হলেও তা কোথায় করা হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। বিবৃতিতে আরো জানানো হয়েছে, নিখুঁতভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানার ব্যাপারে সাফল্য পেয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান আরো একটি স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সফল উেক্ষপণ করে। ৬০ কিমি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম হাতফ নাইনের মূল কাজ হলো ভারতের স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করা। এ পরীক্ষার সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফস কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল খালিদ শামিম ওয়াইনসহ বেশ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা।
