ভারতীয় ক্রিকেট দল এ বছর আগস্ট মাসে পাকিস্তান সফরে যাবে বলে এখনো বিশ্বাস করছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। আর পাকিস্তান সফরে না গেলেও পিসিবিকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য ন্যুনতম কোন নিরপেক্ষ ভেন্যুতে হলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) রাজী হবে বলে তাদের ধারণা।
পিসিবির একটি সূত্র জানায়, ‘ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে আগামী আগস্ট মাসে ভারতীয় দলের পাকিস্তান সফর করার কথা। আমরা আশা করছি—তারা সফরে আসবে। আর যদি নিরাপত্তার কারণে নাও আসে তাহলে অন্তত নিরপেক্ষ কোন ভেন্যুতে খেলবে। কারণ এ হোম সিরিজের রাজস্ব আমাদের খুব দরকার।’
সাবেক চেয়ারম্যান ইজাজ বাট ২০১১ সালে যখন বোর্ড থেকে চলে যান তখন পিসিবি প্রায় ৪.২ বিলিয়ন রুপী দেনা ছিল। এ সিরিজটা এখন আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, পিসিবির খরচ দিনকে দিন বেড়েই চলছে। কিন্তু কোন আন্তর্জাতিক দল পাকিস্তানে খেলতে না আসার কারণে আমাদের রাজস্বটা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘গত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশ হিসেবে পিসিবি সমপ্রতি প্রায় ৩০ কোটি রুপী পেয়েছে। কিন্তু খরচ প্রতিদিন বাড়ছে। ২০১৩ সালের জন্য খেলোয়াড়দের সঙ্গে বোর্ডের এখন ফ্রেশ কেন্দ্রীয় চুক্তি করতে হচ্ছে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে আঞ্চলিক দলগুলোকে বোর্ড আর্থিক সহায়তা প্রদান করায় খরচ বেড়ে গেছে বলেও সূত্রটি উল্লেখ করেন, ‘আঞ্চলিক দলগুলোকে সহযোগিতা করার জন্য খরচ অনেক বেশি বেড়ে গেছে। যেমন ধরুন- আঞ্চলিক দলগুলোর প্রতিটি খেলোয়াড় এখন ম্যাচ ফি এবং দৈনিক ভাতা হিসেবে পান প্রায় ১৮ হাজার রুপী।’তিনি আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের কেন্দ্রীয় চুক্তি, তাদের অন্যান্য ফি, বোনাস, সাপোর্টিং স্টাফদের বেতনাদিসহ বছরে পিসিবির বড় অংশই প্রশাসনিক কাজে ব্যয় হয়।
‘সমপ্রতি ভারত সফরে ম্যাচ ফি, বোনাস ও অন্যান্য পুরস্কার বাবদ প্রত্যেক খেলোয়াড় প্রায় ২.৫০ থেকে ৩ মিলিয়ন রুপী অর্থ আয় করেছে।’তিনি জানান, ‘বোর্ড এখন ভারতকে নিয়ে আগস্টে, অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ডিসেম্বরে শ্রীলংকাকে তিনটি সিরিজ আয়োজনের লক্ষ্যে কাজ করছে। সব সিরিজই হয়তোবা নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে। ভারতের ক্ষেত্রে তারা যদি নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও খেলতে রাজি না হয়, সেক্ষেত্রে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে আমাদের ভারত সফর। যাতে সিরিজ থেকে আমরা রাজস্ব পাই।’
সংযুক্ত আরব আমিরাতের মত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সিরিজ আয়োজন করলে সম্ভাব্য হিসাবের চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ আয় কমে যায় বিভিন্ন খরচ বাবদ। এছাড়া পাকিস্তানে সিরিজ হলে স্পন্সরশীপও উচ্চমূল্যে পাওয়া যায়।
‘যে কারণে পিসিবির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে বিসিসিআই পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে রাজি হবে বলে আশা করছে বোর্ড। মুম্বাই হামলার পর ২০০৯ সালে ভারত তাদের প্রস্তাবিত পাকিস্তান সফর বাতিল করায় আমাদের অনেক বড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।’ যোগ করেন তিনি।‘আগস্টে পাকিস্তানে সিরিজ খেলতে ভারত যাতে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে সে কারণেই কোন স্বার্থ ছাড়াই তারা সেখানে খেলতে রাজি হয়েছে’ বলেও উল্লে¬খ করেন তিনি।-বাসস
