টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই বাড়ি ও সড়কসহ ৮টি গণডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। হঠাত্ করেই উপজেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ঘটনায় মহিলাসহ ৮ জন জখম ও কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে পুষ্টকামুরি গ্রামের হায়দার আলী এবং গোড়াইল গ্রামের জুলহাস মিয়ার বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল এসময় ২৫ ভরি স্বর্ণসহ ৭ লাখ টাকা লুটে নেয়। পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে মহিলাসহ ৫ জনকে। জানা গেছে, ঐদিন রাতে হায়দার আলীর বাড়িতে ডাকাতদল হানা দিয়ে বাড়ির সবাইকে বেঁধে ও পিটিয়ে আহত করে সর্বস্ব লুটে নেয়। একই রাতে জুলহাস মিয়ার বাড়িতে ডাকাত দল হানা দিয়ে বাড়ির সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকারসহ ২/৩ লাখ টাকা লুটে নেয়। এ সময় ডাকাতের হামলায় গৃহকর্তা জুলহাস ও তার স্ত্রী আহত হন। তাদের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত সোম ও মঙ্গলবার সড়কের উপর কাঠের গুঁড়ি ফেলে ব্যারিকেট দিয়ে বাস ট্রাক ও মাইক্রোবাসে গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাতদল যাত্রীদের পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে নগদ টাকাসহ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার গোড়াই-সখীপুর সড়কের হাঁটুভাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। দায়িত্বে গাফিলতির কারণে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এবং ডাকাতদের হামলায় আহত যাত্রীরা টহলরত দুই পুলিশকে গণধোলাই দেয় বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার লোকজন জানান, গত কয়েকদিন ধরেই বাস ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে গেছে। গত শুক্রবার রাতেও এ সড়কে ৭/৮টি বাস ট্রাক এবং মাইক্রোবাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল ডাকাত দলের সদস্যরা লুটে নেয় বলে তারা অভিযোগ করেন। এলাকার লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গোড়াই-সখীপুর রোডে একর পর এক বাস ডাকাতি হচ্ছে। কিন্ত পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে ঐ রোডে চলাচলকারী যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একটি চক্র এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া মাত্র পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
