আপনার পরিচালিত ছবি ‘দেবদাস’ ছবিটি ১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেল। চলচ্চিত্রটির রেসপন্স জানতে চাইছি।
ছবিটির রেসপন্স খুবই ভালো। সুপার বাম্পার চলছে। ৩০টি সিনেমা হলে ছবিটি একযোগে চলছে। হাউজফুল দর্শক রয়েছে। প্রথম সপ্তাহেই এই সাফল্য দেখে আমার খুবই ভালো লাগছে।
এটি নির্মাণে প্রায় তিন বছরের মতো সময় লেগেছে, এর কারণ কী?
শিল্পীদের শিডিউল নিয়ে অনেক ঝামেলা হয়েছে। এর শিডিউল পাই তো, ওর পাই না। এভাবে সবার শিডিউল মিলিয়ে শুটিং করতেই আমার দেরি হয়ে গেছে। এ ছাড়া আর কোনো কারণ নেই।
শহীদুজ্জামান সেলিম গতকাল এই ‘বিনোদন প্রতিদিন’-এর মুখোমুখিতে বলেছেন, ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রে আপনারা তাকে সেইভাবে গুরুত্ব দেননি। এ বিষয়ে কী বলবেন?
তারা অবুঝ, শিশু, তারা জানে না। এখনও বুঝতে শিখেনি। এই চরিত্রে কারা অভিনয় করেছে তার কি এসব জানা আছে? এই চরিত্র করেছেন উত্তম কুমার, জ্যাকি শ্রফ। যাই হোক এতে কিছু আসে যায় না, মূল কথা হলো পারফর্মেন্স। ক্যারেক্টার গড়ার দায়িত্ব তো আর্টিস্টের হয়, আমি তো উপন্যাসের বাইরে যাইনি যে তার জন্য ক্যারেক্টারে স্কোপ তৈরি করে দিব। অতটুকু জায়গার মধ্যেই অভিনেতার মুন্সিয়ানা দেখাতে হয়। যদি এটা খারাপ কিংবা তার জন্য যথেষ্ট না হয় তাহলে সে করল কেন, সে না করলেই পারত। বললেই হতো, না চাষী ভাই আমি করব না। তাহলে আমি অন্য কাউকে নিতাম। অভিনয় শেষ, ছবি রিলিজ এখন এসে এসব বলার মানে কী! সে তো ছবির সেট, বাজেটসহ নানা বিষয় নিয়েই সমালোচনা করেছে। কই আমার অন্য শিল্পী কিংবা অন্য কেউ তো এ ধরনের কথা বলেনি। আমার চোখেও তো এ ধরনের কিছু ধরা পড়েনি। যাই হোক, শাকিব-মৌসুমী ছোট আর্টিস্ট, তারা বুঝে না। সব ব্যর্থতা আমার, সকল প্রশংসা তাদের। অভিনয় গুণ সব সময় দর্শক বিচার করে এবং করবে। সে ভালো করলে ক্রেডিট তার, খারাপ করলেও ব্যর্থতার গ্লানি তারই। যাই হোক সে বয়সেও আমার চেয়ে অনেক ছোট, তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে আমার তেমন জানা নেই। সবচেয়ে বড় কথা আমার পছন্দ না হলে আমি করব না। এইসব কথা পত্রিকায় বলে যদি সুখ পায় তাহলে পাক। আর বাজেটের বিষয়, এটা প্রযোজকদের বললেই ভালো হয়, বাজেট তো আমার উপর নয়, চরিত্র ঠিক মতো হয়নি, বাজেট ঠিক ছিল না এইসব নালিশ সে প্রযোজক বরাবরই করতে পারে। পত্রিকায় বলার মানে বুঝি না।
‘দেবদাস’-এর মতো এত বড় ছবি এত কম বাজেটে নির্মাণ করার কারণ কী?
‘দেবদাস’ বড় বাজেটের ছবি না। কে বলে এটা বড় বাজেটের ছবি! ‘দেবদাস’ ছবি যদি দেখতে হয় তাহলে তাকে, অনেকটা সহজ-সাধারণভাবেই দেখতে হবে। শরত্ চন্দ্র তার উপন্যাসে যেভাবে লিখেছে আমি সেভাবেই বানানোর চেষ্টা করেছি। তার বাইরে বাড়াবাড়ি করা উচিত না। তারপরও তো আমার মনে হয় একটু বেশিই করেছি। বিগ বাজেট বলতে কী বুঝায়, আমি যদি শাহরুখ বা সালমানকে নিয়ে আসি তাহলেই তো বাজেট বেড়ে গেল। বাড়ি ঘর দরকার, আমি তো খারাপ দেখাইনি। বাড়ি ঘরের জায়গায় আর অন্য কিছুতো ব্যবহার করতে পারব না। এগুলো তো বাজেটের বিষয় না। যারা বলে এগুলো খামাখা বলে। আগে বাজেটের বিষয়টা তাদের বুঝা উচিত।
অনেকের মতে আপনার আগের ‘দেবদাস’-এর মতোও হয়নি এবারের ‘দেবদাস’, এটা কেন বলছে বলে মনে হয় আপনার?
এটা বলার কোনো কারণ নেই। আগের সময়, আগের পরিবেশ, আগের দর্শক, আগের সিনেমা হল এগুলোর সঙ্গে তখনকার ‘দেবদাস’টা সবার পারফেক্ট মনে হয়েছে বলেই তখনকারটা মানুষ বেশি ভালো বলছে হয়তো। আগের শিল্পীরাও ছিল তখনকার সময়ের শ্রেষ্ঠ শিল্পী। তারা তাদের মতো করে অভিনয় করেছে। এখনকার শ্রেষ্ঠ শিল্পীরাও এতে অভিনয় করেছে, তারাও তাদের মতো করে অভিনয় করেছে। দর্শকরা যারা আছেন তারা তাদের মতো করে ভাবতে পারেন। কিন্তু আমি তো সময়ের সাথে উপন্যাস পরিবর্তন করতে পারব না। যিনি লিখেছেন আমি তার লেখার চরিত্রটাই বানানোর চেষ্টা করেছি, কোনো বাড়াবাড়ি নয়। আর ওই চরিত্রটা একমাত্র তিনিই সব সময় দেখতে পারেন। যেটা আমাদের অনুমানের উপর বানানোটা খুবই কঠিন কাজ। তাওতো আমরা আমাদের মতো করে সাজিয়ে নেই। লেখকের চিন্তা থেকে চলচ্চিত্র বানানো অনেক কঠিন কাজ।
আপনি কি অস্বীকার করতে পারবেন, সেট, লোকেশন, কস্টিউম, প্রপস ইত্যাদি বিষয়ে আপনার নতুন ‘দেবদাস’ খুবই দুর্বল নয়?
সঞ্জয় লীলা বানশালী কী ‘দেবদাস’ বানিয়েছিল? যদি সেটিকে ‘দেবদাস’ বলে তাহলে কেউ ‘দেবদাস’ পড়েনি। তিনি নিজের মতো করে ছবি বানিয়েছেন, তাতে তিনি সফল। আমি চেষ্টা করেছি হুবহু শরত্চন্দ্রের উপন্যাস বানানোর। আর শুটিংয়ের সেট যে কাঠ দিয়েই তৈরি হয় এটা শহীদুজ্জামান সেলিমের জানা উচিত। তার চোখে লেগেছে, লাগতেই পারে। আমার চোখে লাগেনি, এ নিয়ে আর তো কেউ কিছু বলল না, আর তো কারও চোখে লাগল না। তবে যাই হোক, শিখলাম। ভবিষ্যতে শুটিংয়ের সেট কাঠ বাদে হাওয়া দিয়ে বানানোর চেষ্টা করব।
‘দেবদাস’ ছবিটি মুক্তি পেলেও তেমন আলোড়ন বা আলোচনা সৃষ্টি করতে পারেনি, এর কারণ কী?
চেনা বামনের পৈতা লাগে না। জনগণ জানে চলছে, না হলে হাউজফুল যাচ্ছে কীভাবে। যারা দর্শক তারা অনেক স্মার্ট। তারা সব সময় খোঁজ রাখে কখন কোন ছবি কোথায় যাচ্ছে। এক সময় প্রচারের জন্য হাতি ঘুরিয়েও ক্যাম্পেইন করেছে। যেকোনো পণ্যের জন্য প্রচুর বিজ্ঞাপন করতে হয়। কিন্তু দর্শক যখন জানে এই পণ্যের আভিজাত্য আছে, তখন এর বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না। ওটা এমনিতেই চলে। ‘দেবদাস’ও সেরকম একটা জিনিস।
চলচ্চিত্রে ক্যাম্পেইনের বিষয়ে এখনও আপনারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না, এর কারণ কী?
আমাদের চলচ্চিত্রে আগে যখন ছবি মুক্তি পেত তখন যে পরিমাণ বিজ্ঞাপন করা হতো বিভিন্ন পত্রিকা ও মিডিয়ায় তা এখন করা হয় না। যেমন এখন পত্রিকায় বিজ্ঞাপনই বলতে গেলে দেওয়া হয় না। আগে পত্রিকার বিজ্ঞাপনে দেওয়া থাকত কখন, কোন হলে কোন ছবি চলছে তার বিস্তারিত। এটা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। টিভি আসার কারণেও বলা যায়। টিভি খুব দ্রুত মাধ্যম বলে পত্রিকাতে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। কিন্তু নাহ, পত্রিকার বিজ্ঞাপনের রেসপন্স আলাদা। টিভিতেও এর ক্যাম্পেইন করা উচিত। অনেকেই করছে ইদানীং, অবশ্য ‘দেবদাস’ নিয়ে আমি এখনও করিনি। তবে যারা দর্শক তারা সব সময় খুঁজে বের করে নেয়। কোথায় কোন ছবি চলছে, কোথায় কোন খেলা চলছে, কবে কোন খেলা, কবে ফাইনাল। এগুলোর জন্য বিজ্ঞাপনের প্রয়োজন হয় না। তবে বিজ্ঞাপন করলে অবশ্যই বিষয়টি স্ট্রং হয়। করা উচিত। আর এই বিষয়টা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বাজেটের জন্যই। সব কিছুর এত খরচ বেড়ে গেছে বিজ্ঞাপন করে লাভ করা যায় না। এমনিতেই লোকসান গুণতে হয়। তার উপরে যখন বিজ্ঞাপন প্রচুর দেওয়া হতো তখন সিনেমা হল ছিল পনের শত, আর এখন সিনেমা হল চারশত। মাঝ খান থেকে বিজ্ঞাপনের টাকাটাও লোকসানে গুনতে হয়। আমি যে প্রডিউসারকে বলব আপনি বিজ্ঞাপনে ইনভেস্ট করেন, তাকে তো টাকা উঠানোর শিউরিটি দিতে পারছি না। ফিল্ম তো হচ্ছে একটা গেম, লাগলে তো লাগল, না লাগলে কপাল খারাপ।
এবার আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
দুটি ছবির কাজ শুরু করছি। একটির নাম ‘ভুল যদি হয়’, অন্যটি ‘কোথায় আছ কেমন আছ’। কোনোটারই কাস্টিং এখনও সম্পন্ন হয়নি। তবে দুইটাতেই নায়ক থাকছে ইমন। ‘ভুল যদি হয়’তে নায়িকা থাকছে আলিশা। এই ছবিতে আরও একটি হিরো-হিরোইন লাগবে। আর দ্বিতীয় ছবিরও নায়িকা ঠিক হয়নি। আর আমার চলচ্চিত্রে যদি সেলিম অভিনয় করতে চায় তাহলে করতে পারে। আমি তার সব ভুল ক্ষমা করে দিলাম। আমি তার কাছ থেকে শিখতে চাই। সে যদি আমার ফিল্মে কাজ করে তাহলে আমি অনেক কিছু শিখতেও পারব, এতে আমি কৃতার্থ হব।
