যমুনা নদী খনন প্রকল্প

ক্রসবাঁধের সুফল পাচ্ছে না চরবাসী

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৮
তারাকান্দি-ভূঞাপুর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্রসবাঁধ ও যমুনা নদী খনন প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে না চরবাসি। বালি ব্যবসায়ীদের জন্য ভাটিতে জেগে উঠা নতুন চর না টেকায় নদীর বালু নদীতে মিশে যাওয়ায় সরকারি টাকার শ্রাদ্ধ হচ্ছে। জানা যায়, যমুনা নদী শাসনের আওতায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ক্যাপিটাল (পাইলট) ড্রেজিং অব রিভার সিস্টেম ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় দুই দফায় নদী খনন এবং ক্রসবাঁধ নির্মাণের কাজ করে। প্রথম দফায় ২০১০ সালে ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গোপালপুর উপজেলার নলিন পয়েন্টে দুই মাইল ক্রসবাঁধ নির্মাণ এবং নদীর পশ্চিম অংশে দুই কিলো নদী খননের কাজ করে। ফলে ভাটিতে ভূঞাপুর উপজেলা অংশে ৩ হাজার একর জুড়ে চর জেগে উঠে। এ চরে চাষাবাদও হয়। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা নতুন চর থেকে নির্বিচারে বালু সংগ্রহ করায় গত বর্ষা মৌসুমে স্রোতের টানে পুরো চর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্বিতীয় দফায় ২০১১ সালে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সোনামুই থেকে যমের বয়রা পর্যন্ত দুই মাইল ক্রসবাঁধ এবং পশ্চিম-দক্ষিণে তিন কিলো নদী খনন করে। ফলে এবার চর ভরুয়া, চর শাখারিয়া ও জগত্কুড়া গ্রামে প্রায় ২ হাজার একর জুড়ে নতুন চর জেগে উঠে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আশা করছে এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হবে। বাম তীরে ভাঙ্গন বন্ধ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সুরক্ষা পাবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীরা এবার নতুন চরকে বেছে নিয়েছে। নলিন বাজার সংলগ্ন বাঁধ থেকে বিরাট রাস্তা বানিয়ে ড্রেজার দিয়ে রাত-দিন বালু তুলছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাকে করে বালি দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান যাচ্ছে। চর শাখারিয়া গ্রামের মতিউল আলম জানান, বিশ বছর পর চর জেগে উঠায় অনেকের মধ্যে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন জেগে উঠেছিল। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা সে স্বপ্ন খান খান করে দিচ্ছে। সামনের বর্ষায় এ চর নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বালু ব্যবসায়ীদের ঠেকানোর দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিনা ইসলাম জানান, অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধের জন্য হেমনগর ফাঁড়ির পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।