একটু একটু করে অপরাধী প্রমাণিতই হতে চলেছেন অস্কার পিস্টোরিয়াস। তার পক্ষে এখন পর্যন্ত কিছুই তথ্য-প্রমাণ দাঁড় করানো যায়নি। উল্টো এখন তার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু বলছেন, ইমার্জেন্সি পুলিশকে ফোন করার আগে উত্তেজনা ও ভয়ে পিস্টোরিয়াস তাকেই ফোন করেছিলেন। ফোন করে বলেছিলেন, ‘আমাকে বাঁচাও। আমি বাবাকে (রিভা স্টিনক্যাম্প) গুলি করে ফেলেছি।’
ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার। দুই পা ছাড়া অলিম্পিকে অংশ নেয়া কিংবদন্তি অস্কার পিস্টোরিয়াসকে সেদিন প্রিটোরিয়া পুলিশ তারই বাসায় বান্ধবী রিভাকে পরপর চারটি গুলি করে হত্যার অভিযোগে গেফতার করে।
পিস্টোরিয়াসের বাসার কম্পাউন্ডে গুলির আওয়াজ পেয়ে আশপাশের লোক ছুটে আসেন। তারা এসে দেখতে পান রক্তের ভেতর বসে মুখে শ্বাস দিয়ে রিভাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন অস্কার। কিন্তু তাদের সামনেই মারা যান রিভা। খানিক পরই ইমার্জেন্সি ফোন কল পেয়ে পুলিশ চলে আসে।
পিস্টোরিয়াসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জাস্টিন ডিভারিস বলছেন, তিনিও এই সময় পৌঁছান। তার আগে তিনি ফোন কল পান পিস্টোরিয়াসের কাছ থেকে। যেখানে এই অ্যাথলেট গুলি করার কথা স্বীকার করেন।
ডিভারিস দাবি করছেন, ওইদিন বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে তিনি পিস্টোরিয়াসের ফোন কল রিসিভ করেন। রিসিভ করা মাত্র অন্যপ্রান্ত থেকে চিত্কার শুনতে পান, ‘আমাকে এখান থেকে বের করো! আমি বাবাকে গুলি করেছি। আমি বাবাকে মেরে ফেলেছি।’ এরপর ডিভারিস চিত্কার করতে থাকেন, ‘কী বলছো তুমি!’ কিন্তু আর কিছু শুনতে পাননি তিনি। তত্ক্ষণাত্ গাড়ি নিয়ে ছুটে এসে ডিভারিস দেখেন, তার আগে পুলিশ পৌছে গেছে।
এদিকে পিস্টোরিয়াসের বাবা গতকাল সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন, তার ছেলে ক্রীড়াবিদসুলভ প্রবৃত্তি থেকে কিছু একটা করে ফেলেছে। হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেছে, এটা তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না। ৫৯ বছর বয়সী হেনক পিস্টোরিয়াস বলছেন, ‘আমার ছেলেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে আমরা নিজেদের জীবন বাজি রাখতেও পিছপা হবো না। আমরা চাই যেকোনো মূল্যে সত্যিটা বেরিয়ে আসুক।’
আবার নিহত রিভার বাবা বলছেন, তারা পিস্টোরিয়াসকে দোষী ধরে নিয়েই এগোচ্ছেন না। তারা চান প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক। রিভার বাবা ব্যারি স্টিনক্যাম্প বলছিলেন, ‘আমরা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না যে, আমাদের আদরের মেয়েটাকে কেন কেউ এমন করে হত্যা করতে পারে! তবে আমরা প্রবল ঘৃণা দিয়ে সমাধান খুঁজছি না। আমরা চাই সত্যি ঘটনাটা জানা যাক।’
এদিকে পুলিশ পিস্টোরিয়াসের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে একটি রক্তাক্ত ক্রিকেট ব্যাট। পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, ‘ব্যাটটিতে প্রচুর রক্ত ছিল।’ ব্যাটটি দিয়ে স্টিনক্যাম্প আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন নাকি এটা দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়েছিল পুলিশ তা তদন্ত করছে।
এখন পিস্টোরিয়াসের মামলা আদালতের হাতে। সেখান থেকেই বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য। তবে এরই মধ্যে সংবাদ মাধ্যমের অনুমান করার পালা চলছে। তারা বলছেন, পিস্টোরিয়াসের এই বান্ধবী রিভা সম্প্রতি পিস্টোরিয়াসের আরেক বন্ধু, রাগবি তারকা ফ্রাঙ্কোইস হগার্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। এ নিয়ে নাকি বেশ কিছুদিন ধরে একটু টানাপোড়েনও চলছিল। অবশেষে সেটারই একটা পরিণতি এই হত্যা কি না, তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
