৪০ বছর হয়ে গেছে, তারপরও নায়িকা হতে চায়

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫১
মু খো মু খি দীপা খন্দকার। এ দেশের ছোটপর্দার এক সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। দীর্ঘদিন ব্যস্ততার সঙ্গে ছোট পর্দায় অভিনয় করেছেন তিনি। তবে পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে প্রায় বছর দুয়েক ধরে অভিনয়ে ব্যস্ততাটা একটু কমিয়ে দিয়েছেন। নিজের বর্তমান ব্যস্ততাসহ মিডিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অর্ক হাসান। আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন— নাটক করছি কয়েকটা, খুব বেশি কাজ করছি না আসলে। এখন একটু কম কাজই করছি, কারণ বাচ্চাকে সময় দিতে হয়। তারপরও বেশ কিছু সিরিয়াল করছি। তার মধ্যে প্রচার হচ্ছে গাজী টিভিতে ‘জননী’, বৈশাখীতে ‘ভরসা কোচিং সেন্টার’ ও ‘বড় বাড়ির ছোট বউ’, এনটিভিতে ‘মায়ানিগম’। এগুলো সবই যেহেতু মেগা সিরিয়াল তাই প্রতিমাসেই শুটিং করতে হচ্ছে। এ ছাড়া মাঝে মাঝে তো এক ঘণ্টার নাটকের কাজ করছি, একুশে ফেব্রুয়ারিতে একটা নাটক যাবে। এটার কাজ করলাম রিসেন্টলি। সেলিম আলদীনের ‘যুবতী কন্যার মন’-এর শুটিং করব। কায়সার আহমেদের ‘ঘোমটা’ নামের একটি সিরিয়াল করছি, এটা খুব সম্ভবত বাংলাভিশনে যাবে। দেখা যায় কম কাজ করব ভেবেও মাসে পনের-বিশ দিন কাজ করা হয়ে যায়। এ ছাড়া তো সন্তানকে সময় দিতে হয়। বিভিন্ন সোস্যাল কাজেও সময় দিতে হয়। নাটক করি না করি না বলেও অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। আপনাকে এখন আর আগের মতো নাটকে নিয়মিত দেখা যায় না, এর কারণ কী? আমি আসলে আগের মতো আর ব্যস্ত থাকতে চাই না। চৌদ্দ বছর হয়ে গেছে ক্যারিয়ারের। আট-নয় বছর প্রতিদিন কাজ করে হাঁপিয়ে গিয়েছি। এখন যেমন আছি ভালো আছি, এভাবেই থাকতে চাই, মাসে দশদিন কাজ করতে পারলেই আমি হ্যাপি। বাকি বিশ দিন যেন নিজের সংসারকে সময় দিতে পারি এভাবেই নিজেকে গোছানোর চেষ্টা করছি। এখন তো চ্যানেল অনেক, নতুন অভিনয়শিল্পীরা বেশ ব্যস্ততার সঙ্গে কাজ করছেন। এই অধিক ব্যস্ততায় কাজ করতে গিয়ে কাজের মানটা কতটুকু ধরে রাখতে পারে বলে আপনার মনে হয়? আসলে নতুন শিল্পীদেরকে আমি কোনো দোষ দিতে চাই না। মান ধরে রাখার মতো ওই দায়িত্ববোধ তাদের তৈরি হয়নি, এত তাড়াতাড়ি হয়ও না। এর পুরো দায়িত্বটাই পরে পরিচালকের উপর। পরিচালকের দায়িত্ব হচ্ছে কীভাবে তাদের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত কাজটা বের করে আনা যায়, ক্যারেক্টারটা কীভাবে ফুটানো যায়। এটা পুরোটাই পরিচালকের দায়িত্ব। অনেক সময় তো গল্পেই নতুন শিল্পী ডিমান্ড করে, তখন তো তাকে নিতেই হয়, নতুনকে দিয়ে ভালো কাজটা বের করা আনার দায়িত্বটাও পরিচালকের। এখানে নতুনদের দোষ দিয়ে কোনো লাভ নেই। একদিন তারাও তৈরি হয়ে যাবে। আমাদের তো জেনারেশনের অনেকগুলো ধাপ তৈরি হয়েছে। যেমন সুবর্ণা আপারা অনেক সিনিয়র তারপর শমী, তারপর তারিন এভাবে আমরাও এক প্রজন্মের সিনিয়র। আমাদের সবার মধ্যে এই সিরিয়াসনেসটা তৈরি হয়ে গেছে। তাদের মধ্যেও তৈরি হয়ে যাবে। এটা সময়ের ব্যাপার। নতুনদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। এত এত নাটক হচ্ছে, চ্যানেলও এত বেশি। তারপরও ভারতীয় চ্যানেল থেকে দর্শকদের ফেরানো যাচ্ছে না কেন বলে মনে করেন? আমি সেটা মনে করি না। আগে এটা যে পরিমাণে ছিল এখন তো একেবারেই কমে গেছে বলা যায়। আগে পাশের বাসায় চলতো আমার বাসায় ওই সিরিয়ালের সাউন্ড আসত। শুটিং করছি দেখা যেত পাশের বাসা থেকে সেই স্টার প্লাসের মিউজিক সেট পর্যন্ত হাজির। এখন তো এমনটা পাওয়া যায় না। আমার কাছে মনে হয় এখন আমাদের দেশের চ্যানেল অনেক মানুষ দেখছে। সিনেমা হলে গেলেও দেখি সব শ্রেণীর সব বয়সের মানুষ হলে যাচ্ছে। দেশীয় চ্যানেলের প্রতি মানুষের আকর্ষণও বেড়েছে বলে মনে হয়। এখন তো ছোটপর্দার অনেক অভিনয়শিল্পীই চলচ্চিত্রে ভিড়ছেন, এটি কীভাবে দেখছেন, আর আপনি চলচ্চিত্রে আসার কোনো সম্ভাবনা আছে কি? এটাকে অবশ্যই ভালোভাবে দেখছি। ছোটপর্দার মানুষ বড়পর্দায়, বড় পর্দার থেকে ছোট পর্দায় এতে আলাদা করে কিছু দেখি না। দুইটাই তো অভিনয়। আমার কাছে মনে হয় আজ একটি নাটক অনএয়ার হচ্ছে, এক বছর পর এর কোনো সিডিও নেই। আমার নিজেরই অনেক কাজ আমার কালেকশনে নেই। কিন্তু সিনেমা তো বড় ইন্ডাস্ট্রি, এর কাজটার রেসপন্সও দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যায়। আর এর আর্কাইভ কখনও হারায় না। আমার কাছে মনে হয় এর জোয়ারটা আরও বাড়া উচিত। সবাই চলচ্চিত্রে আগ্রহী হওয়া উচিত। তবে হ্যাঁ, নায়ক বা নায়িকা হবো এই প্রবণতা থাকা উচিত না। অভিনয়টাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আমরা সবাই হলিউড-বলিউড দেখি। নায়ক-নায়িকার বাইরেও অনেক ক্যারেক্টার আমাদের সবার কাছে প্রিয়। দিনের পর দিন তারা অভিনয় করে যাচ্ছেন। এটা আমাদের এখানেও হওয়া উচিত। নায়িকার বয়স ৪০ হয়ে গেছে, তারপরও তার মধ্যে যদি নায়িকা হিসেবেই অভিনয় করার প্রবণতা থাকে তাহলে এটা ঠিক না। আর হ্যাঁ, আমিও চলচ্চিত্রে কাজ করতে চাই, করব। ওই রকম ভালো কোনো ক্যারেক্টার পেলে অবশ্যই করব। নায়িকা হতে হবে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। প্রেমের ছবি হতে হবে এমন কোনো কথাও নেই। তবে হ্যাঁ, অভিনয়ের সুযোগ থাকতে হবে। তরুণ অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে সিডিউল ফাঁসানোর একটা প্রবণতা দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন? আমি বলব এটা নির্বুদ্ধিতার ব্যাপার। ওদের আসলে ওই পরিমাণ জ্ঞান বুদ্ধি হয়নি, তাই বোকার মতো কাজ। ঘরে হোক বাইরে হোক, প্রতিটি ক্ষেত্রেই যে সম্মান দিতে জানে না সে সম্মান পায়ও না। তাদের জীবনে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনাও খুব কম। অস্বাভাবিক কিছু পৃথিবীতে থাকা উচিত। যারা সিডিউল ফাঁসায় তারা সিরিয়াস না, তারা কাজটাকে মন থেকে ভালোবাসে না। আবার কেউ কেউ লোভে পড়ে কাজটি করে। এই দুইটাই খারাপ দিক। সিডিউল আজকে সে ফাঁসালেও তার জায়গা কিন্তু খালি থাকে না, এটাও তার বুঝা উচিত। আর যার সঙ্গে এই কাজটি করছে সেও কিন্তু তাকে আর কখনও নেবে না।