নৌশক্তি বাড়াচ্ছে চীন, উদ্বিগ্ন ভারত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:১৮
ক্রমবর্ধমানভাবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সমুদপথ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দর পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ সেই প্রচেষ্টার সর্বশেষ সংযোজন। এর ফলে আরব সাগরে সম্ভাব্য একটি নৌঘাঁটিও পেয়ে গেছে চীন। আর এটাই দুর্ভাবনার কারণ হয়েছে ভারতের জন্য। পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ গত ৩০ জানুয়ারি গোয়াদার বন্দর হস্তান্তরের বিষয়টি অনুমোদন করে। গোয়াদার পোর্টের পরিচালনার দায়িত্ব সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না ওভারসীজ পোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ায় আরব সাগর ও হরমুজ প্রণালীর সঙ্গে চীনের সংযোগ স্থাপিত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে চীনের হাজার কিলোমিটার দূরত্ব কমে যাবে। এই বন্দরটি নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ২৫ কোটি মার্কিন ডলারের ৭৫ শতাংশই পরিশোধ করেছিলো চীন, কিন্তু তত্কালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ বন্দরটি চীনকে দিয়ে ওয়াশিংটনের কাছে বিরাগভাজন হতে চাননি। ফলে সিঙ্গাপুরের পিএসও ইন্টারন্যাশনালকে ৪০ বছরের জন্য এটি লীজ দেয়া হয়। এই বন্দরটি চীনের কাছে হস্তান্তরে চুক্তি সম্পাদনে একবছর সময় লাগলেও প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ইতোমধ্যেই এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এদিকে চীন তিব্বত সীমান্তের কাছে নেপালের লারচায় ১ দশমিক ৪ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি ড্রাই পোর্ট নির্মাণ করছে। তারা আরো পাঁচটি বন্দরও নির্মাণ করছে। এছাড়া বিশাল ভারতীয় বাজারের কথা বিবেচনা করে পরিবহন সংযোগও উন্নত করেছে। চীন বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ সোনাদিয়ায় ৫শ’ কোটি ডলার ব্যয়ে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণেও ভারত, জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী।