পাকিস্তানের কোয়েটায় শনিবারের বোমা হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এর জন্য গোয়েন্দা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন বেলুচিস্তানের গভর্নর নবাব জুলফিকার আলি মাগসি। তিনি বলেন, “কোয়েটায় হাজারা শিয়া সমপ্রদায়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলা গোয়েন্দা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণেই ঘটেছে।” ওদিকে নিহতদের স্মরণে রবিবার ধর্মঘট ডাকে স্থানীয় হাজারা ডেমোক্রাটিক পার্টি। এতে থমকে যায় কোয়েটা পরিস্থিতি। এদিকে এ হামলার ঘটনায় এদিন শিয়া নেতারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, শিয়া সমপ্রদায়ের নিরাপত্তা ও অপরাধের বিষয়ে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এর আগে শনিবারেও রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ করেছে হাজারা সদস্যরা। তারা পাথর ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানায় এবং টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। দারিদ্র্য, দুর্নীতি এবং বিদ্যুত্ বিভ্রাট সামাল দিতে সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে ইতিমধ্যেই জনমনে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ হামলার ঘটনায় আরো বাড়ছে। স্থানীয় এক নেতার উক্তি, “কে কি করছে, এ নাশকতার পেছনে কারা জড়িত সরকার সবই
জানে। সরকার থামাতে চাইলে কেউ এমনকি একটি ছুরি নিয়েও মার্কেটে ঢুকতে পারত না।” চাপের মুখে হামলার শিকার হওয়া শিয়া সমপ্রদায়কে রক্ষার সবরকম প্রচেষ্টা নেয়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি।
কোয়েটার কাছে শিয়া মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার একটি বাজারে বোমা হামলায় নারী ও শিশুসহ ৮৪ জন নিহত ও অপর প্রায় ২০০ জন আহত হয়। ২০ জন গুরুতর আহত হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বোমা হামলা এতটা ভয়াবহ ছিল যে প্রতি মুহূর্তে মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং রবিবার সকালে পাকিস্তানের হাসপাতাল সূত্রগুলো হতাহতের নতুন এ সংখ্যা জানায়। পুলিশ সূত্রগুলো জানিয়েছে, হামলায় হতাহতদের প্রায় সবাই হাজারা শিয়া মুসলিম। ঘটনাস্থলে প্রচুর সংখ্যক স্কুল ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিল এবং সেখানে যত্রতত্র এখন শুধু স্কুলব্যাগ পড়ে আছে । ট্রাক্টরের ট্রেইলারের মধ্যে রাখা একটি পানির ট্যাঙ্কিতে লুকিয়ে রাখা ৭০ থেকে ৮০ কেজি ভরের একটি বোমার বিস্ফোরণে এ হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন কোয়াটার পুলিশ প্রধান মির জুবাই মেহমুদ। কোয়েটা পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক ওয়াজির খান নাসির বলেন,“শিয়াদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সহিংসতার অংশ হিসাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।”
