‘এই ম্যাচটা জিততে পারলে বুঝবো সফল হয়েছি’

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৪২
আজ সন্ধ্যায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) টানা দ্বিতীয়বারের মত ফাইনাল খেলতে নামবে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। গতকাল সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচের আগে শেষ প্রস্তুতি নিয়েছে টিম ঢাকা। অনুশীলন শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা জানালেন, ফাইনাল নিয়ে তাদের প্রস্তুতির কথা— দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা স্বপ্ন। কতটা আত্মবিশ্বাসী? অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী। কারণ পুরো টুর্নামেন্টেই আমরা ভালো খেলেছি। আমাদের অবশ্যই সুযোগ আছে। যদিও ফাইনালে কোন দ্বিতীয় সুযোগ নেই। তাই নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। খেললে অবশ্যই সুযোগ আছে। ফাইনালে গেইল না থাকার কোন প্রভাব পড়বে? না। আসলে গেইল তো হঠাত্ করেই এসেছিল। আমরা কিন্তু এর আগের সব ম্যাচ তাকে ছাড়াই খেলেছিলাম। পরিকল্পনাও সেই অনুযায়ীই সাজিয়েছিলাম। যদিও শেষ ম্যাচ সে যেভাবে পারফরম করে গেছে তাতে সবারই হয়ত আফছোস থাকতে পারে যে গেইল থাকলে হয়ত ভালো হত। কিন্তু আমরা পুরো টুর্নামেন্টে গেইলকে ছাড়াই খেলেছি। আর আমাদের স্থানীয় খেলোয়াড়রা ভালো খেলেছেন। সাকিব ও আশরাফুলরা নিজেদের খেলাটা খেলতে হবে; আবার পোলার্ডও আছে। অন্য বিদেশিরাও খারাপ পারফরম করেনি। তো সবাই যদি ভালো পারফরম করতে পারে, তাহলে আশা করি গেইলের অভাব বোধ আমরা করব না। গেইল না থাকলেও আপনাদের দলটাই সবচেয়ে তারকানির্ভর দল। এটা কখনো কখনো দলের জন্য মাইনাস পয়েন্ট হয় কিনা, দলে যেহেতু অনেক তারকা? না। বিশেষ করে এ ধরনের টুর্নামেন্টে তেমন সমস্যা হওয়াটা একটু কঠিন। কারণ আসলে আমার মনে হয় না টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে বড় বড় তারকারা খুব ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। টিম স্পিরিটটা এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট যেমন পুরো টুর্নামেন্টে ভালো খেলেছে। শুধুমাত্র টিম স্পিরিটের জন্য। তাদের কিন্তু অত বড় কোন তারকা নেই। তারপরও তারা ভালো খেলছে। চিটাগাংয়েরও একই অবস্থা। এখানে বড় তারকার কোন প্রভাব থাকে না। যেমন আগের ম্যাচে সিলেট আমাদের প্রায় হারিয়ে দিয়েছিল। তাই প্রতিপক্ষ যেই আসুক, আমাদের কাজটা খুব সহজ হবে না। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে বড় স্কোরও নিরাপদ নয়। ফাইনালে কত হলে নিরাপদ বলবেন? এটা আসলে বলা অনেক কঠিন। কারণ উইকেট খুবই স্পোর্টিং হচ্ছে। স্পিনাররাও দেখবেন ভালো করছে। ব্যাটসম্যানরাও রান পাচ্ছে। পেস বোলাররাও কখনো কখনো ভালো করছে। এরকম উইকেটে যারা ভালো খেলবে তারাই জিতবে। নিরাপদ স্কোর বলাটা কঠিন। তারপরও এখন পর্যন্ত বড় দলের খেলাগুলো যেভাবে হয়ে এসেছে তাতে দেখা গেছে ১৭০ বা ১৮০ প্লাস রান হলে লড়াই হচ্ছে খুব। আমার মনে হয় ১৭০-৮০ করতে পারলে খেলাটা অবশ্যই ভালো হবে। দর্শকদের সমর্থন কেমন আশা করছেন? দেখুন প্রত্যেকটা দলেই কিন্তু বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড় আছে; ফলে সব দলই ভালো সমর্থন পাচ্ছে। ঢাকাও সমর্থন পাচ্ছে। কিন্তু মুশফিকেরও অনেক ভক্ত আছে। ওরা হয়ত সিলেটকে সমর্থন করছে। চিটাগাংয়ের মাহমুদ উল্লাহকে সমর্থন করছে। ঢাকায় বোধহয় আমাদের সমর্থনই বেশি। গত বছর যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন, আরেকটি ফাইনালের আগে একইরকম আত্মবিশ্বাস কি আছে? গত একমাসে দল মালিকদের সঙ্গে যতগুলো মিটিং হয়েছে, ওনারা কিন্তু সবসময় কালকের দিনটার চিন্তা করেছেন। এজন্যই দল গড়েছিলেন তারা। সেদিক থেকে ওনারা সফল। তবে ফাইনাল এমন একটা খেলা যেখানে বলা কঠিন কারা জিতবে। ফাইনাল জিততে পারলে বলতে পারব পুরোপুরি সফল। অধিনায়ক হিসেবে আপনি কতটুকু সফল? আমার কাজ এখনো বাকি। আরো একটা ম্যাচ বাকি। চেষ্টা করতে হবে সর্বস্ব দিয়ে খেলার এবং দলটাকে চ্যাম্পিয়ন করা। সেটা পারলেই বলব সফল।