কেপ টাউন টেস্টের চতুর্থ দিনটি হয়ে উঠলো টেস্ট ক্রিকেটের এক অভাবনীয় বিজ্ঞাপন। তিন উইকেটে ১০০ রান নিয়ে দিন শুরু করা পাকিস্তান আর মাত্র ৬৯ রান যোগ করতেই অল আউট! ছয় উইকেট হারিয়েই ১৮২ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে গেল স্বাগতিকরা। টানা পাঁচ টেস্ট জয়; সাথে যোগ হলো টানা ষষ্ঠবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়; সময়টা এখন দক্ষিণ আফ্রিকার।
দক্ষিণ আফ্রিকায় পা রাখার পর থেকেই খারাপ সময় যাচ্ছে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ৪৯ রানে। টেস্টটিতে হেরেছে ২১১ রানের বিশাল ব্যবধানে। সিরিজ বাঁচানোর স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে। এবারও মাঠে মারা। রবিবার দ্বিতীয় টেস্ট চার উইকেটে হেরে তিন ম্যাচের সিরিজ খোয়ালো ২-০ তে।
কেপ টাউনের নিউল্যান্ডস স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন পর্যন্ত গড়িয়েছে দ্বিতীয় টেস্ট। কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১২ রানের লিডও পেয়েছিল পাকিস্তান। আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৩৮ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দল। এরপর স্বাগতিকদের বেঁধে ফেলে ৩২৬ রানে।
এগিয়ে থেকেও দ্বিতীয় ইনিংসটাকে বেশিদূর টানতে পারেননি মিসবাহ উল হকরা। ডেল স্টেইন, ভার্নন ফিল্যান্ডার এবং রবিন পিটারসনের বোলিং তোপের মুখে ১৬৯ রানে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ফেলে পাকিস্তান।
এই টেস্টের দুই ইনিংস মিলে নয়টি (পাঁচ ও চার) উইকেট শিকার করেন ফিল্যান্ডার। মর্কেল ও পিটারসন চারটি করে এবং স্টেইন দুই ইনিংসে পেয়েছেন পাঁচ উইকেট।
সিমিং কন্ডিশন পেয়ে পাকিস্তানের বোলাররাও লড়াই জমিয়ে দিয়েছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলে। পাকিস্তানের সাঈদ আজমল এই টেস্ট ১০ উইকেট (ছয় ও চার) পেয়েছেন। রবিন পিটারসন হয়েছেন দ্বিতীয় টেস্টের ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৩৩৮ ও ১৬৯ রান (আজহার আলি ৬৫, মিসবাহ-উল হক ৪৪; ভার্নন ফিল্যান্ডার ৪/৪০, ডেল স্টেইন ৩/৩৮, রবিন পিটারসেন ৩/৭৩)
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩২৬ ও ১৮২/৬ (হাশিম আমলা ৫৮, এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩৬; সাঈদ আজমল ৪/৫১)
ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা চার উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা: রবিন পিটারসেন
সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ২-০ তে জয়ী
