সহজ পরীক্ষায় কোলন ক্যান্সারে মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস করা যায়

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৮
কোলন ক্যান্সার এখন বাংলাদেশে সবচেয়ে আলোচিত একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। কারণ জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমদের কোলন ক্যান্সার শনাক্ত হবার পর বিষয়টি দ্রুত মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচার পায়। এই কোলন ক্যান্সার শনাক্ত করতে কোলনস্কোপির মত ব্যয়বহুল ও বিরক্তিকর পরীক্ষার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞগণ। কিন্তু কম খরচের একটি অতি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার নির্ণয়ের নতুন পদ্ধতির তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। আর তা হচ্ছে কোলনস্কোপির পরিবর্তে সহজ পরীক্ষা সিগময়েডস্কোপি করে কোলন সম্পর্কে জানা যায়। এটা ব্রেস্ট ক্যান্সার নির্ণয়ের ম্যামোগ্রামের মতই। হেরাল্ড ট্রিবিউন পত্রিকায় এই গবেষণা রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়েছে। শ্রীঘ্রই এই রিপোর্টটি যুক্তরাস্ট্রের সানদিয়াগোতে অনুষ্ঠিতব্য পরিপাকতন্ত্রের রোগ বিষয়ক এক সম্মেলনে উপস্থাপনা করা হবে। এপির প্রধান মেডিক্যাল রাইটার মেরিলিন মার্কিয়নের প্রতিবেদন অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকির দিক দিয়ে কোলন ক্যান্সার তালিকায় দ্বিতীয় এবং বিশ্বে চতুর্থ স্থানে। রিপোর্টে যে উদ্বেগজনক তথ্যটি উল্লেখ করা হয় তা হচ্ছে এ বছর কেবল মাত্র যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত: ১ লক্ষ ৪৩ হাজার নতুন কোলন ক্যান্সারের রোগী শনাক্ত হবে এবং তন্মধ্যে ৫২ হাজার রোগীর মৃত্যুর আশংকা রয়েছে। ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সের লোকদের অন্তত: একবার কোলন পরীক্ষার প্রয়োজন থাকলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই মাত্র ৬০ ভাগ এই বয়সের লোকদের কোলন পরীক্ষা করতে দেখা যায়। যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের পরামর্শ হচ্ছে, বছরে একবার স্টুল বা মল পরীক্ষা, প্রতি পাঁচ বছরে একবার সিগময়েডস্কপি অথবা প্রতি দশ বছরে একবার কোলনস্কোপি করা উচিত। সিগময়েডস্কপি সম্পর্কে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির কোলন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ড. ডিউরাডো ব্রুকস-এর অভিমত: এই পরীক্ষাটি করতে কোন এনেসথেশিয়া দেয়া হয় না তাই খানিকটা অস্বস্তি হলেও কোলনের একতৃতীয়াংশ দেখা যায় যেখানে বেশীরভাগ পলিপ ও ক্যান্সার কোষের উত্পত্তি হয়। তবে সিগময়েডস্কপির মাধ্যমে কোলন ক্যান্সার শনাক্ত করার প্রধান গবেষক পিটসবার্গ মেডিক্যাল সেন্টারের বিশেষজ্ঞ ড. রবার্ট সোয়েন কোলন ক্যান্সার নির্ণয়ের এই সহজ পরীক্ষা সম্পর্কে বলেন, সিগময়েডস্কপির মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় কোলন ক্যান্সার শনাক্ত করতে সহায়ক এবং কোন ক্ষেত্রে সন্দেহ হলে তাকে কোলনস্কপি করার পরামর্শ দেয়া হয়।