কপোতাক্ষ নদের বেইলি সেতুটি এখন মরণফাঁদ

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২২
বছরের পর বছর সংশ্লিষ্ট বিভাগের অবহেলা, রক্ষণাবেক্ষণ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অনিহা এবং দুরদর্শিতার অভাবে যশোরের চৌগাছা শহর সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের উপর বেইলি সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। যে কোন সময় সেতুটি ধসে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া এ পর্যন্ত ব্রিজ থেকে পড়ে শতাধিক মানুষ আহতসহ মারা গেছে দুজন। ১৯৮৫ সালে নির্মিত সেতুটির পাটাতন (স্লাব)গুলো মরিচা ধরে মাঝে মাঝে ভেঙ্গে পড়ছে। পাটাতনগুলি ফাঁকা হয়ে গেছে এক থেকে দেড় ফুট। অসাবধানবশত বা অন্ধকারে চলাচলের সময় এই সেতু থেকে পড়ে অনেকের হাত, পা ভেঙ্গে গেছে। কয়েকটি পাটাতন ভাল থাকলেও স্থানচ্যুত হয়ে গেছে। অসাধু লোকেরা সেতুটির নাট বোল্ট চুরি করে নেয়ায় বাস, ট্রাকসহ ভারি যানবাহন সেতুর ওপর উঠলেই সেটি দুলতে থাকে। ফলে যে কোন সময় বড় আকারের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। মাত্র ১২ ফুট প্রশস্ত এ সেতুটিতে একটি গাড়ি উঠলে পাশ দিয়ে আর একটি মানুষ হেঁটে যাবার মত পথ থাকে না। জনগণের দাবির মুুখে ১৯৭২ সালে বর্তমান সেতুস্থলে একটি কাঠের সেতু তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কপোতাক্ষের প্রবল স্রোতে অল্পদিনের মধ্যে সেতুটি ভেসে যায়। বর্তমানের বেইলি সেতুটি যশোর জেলা শহরসহ খুলনা, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর, চুয়াডাঙ্গা জেলার, হাসাদাহ, জীবননগর, দর্শনা এবং মেহেরপুর জেলার মানুষের যোগাযোগ ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া সেতুটি নতুন ভাবে নির্মিত এবং সমপ্রসারিত হলে উল্লেখিত জেলারগুলোর সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অল্প সময়সহ অর্থনৈতিক ভাবে জনগণ লাভবান হবে। সেতুটি বিপজ্জনক উল্লেখ করে কয়েকবার নির্বাহী প্রকৌশলী যশোর এবং প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হলেও আজও কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এব্যাপারে (চৌগাছা-ঝিকরগাছা-২) থেকে নির্বাচিত এমপি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা ফারুক মোহাম্মদ বলেন, বর্তমান সরকারে আমলেই এখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।