গুরুদাসপুরে বেঞ্চ সংকট, ক্লাস করতে হয় দাঁড়িয়ে

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৫
কুমারী সাথী রানী ও শাম্মী আকতার। ওরা দু’জনই পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। শীতে ওদের স্কুল শুরু সকাল ১০টায়। কিন্তু ভোরের আলো ফুটার সাথে সাথে স্কুলে যেতে হয় তাদের। ফলে সকালের পড়া আর হয়ে ওঠে না। কারণ, তাদের স্কুলে বসার জন্য পর্যাপ্ত বেঞ্চ নেই। তাই সকাল সকাল তাদের স্কুলে যেতে হয়। শাম্মীদের মত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চন্দ্রপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৪০ জন কোমলমতি শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিদিন চলে বসার জায়গা নিয়ে প্রতিযোগিতা। ওই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা জানায়, স্কুলটিতে শুধু বসার জায়গা সংকট নয়। শিক্ষক, টয়লেট, বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট রয়েছে। তাছাড়া স্কুলটিতে বিদ্যুত্ নেই। শ্রেণিকক্ষগুলোর অবস্থাও নাজুক। বিশেষ করে স্কুলের সামনের সড়কটিতে স্পীড ব্রেকার (গতিরোধক) না থাকায় ঘটছে দুর্ঘটনা। বছরের পর বছর এসব সমস্যা চললেও সমস্যা নিরসনে কোন উদ্যোগ নেয়া হয় না। গত মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলে গিয়ে দেখা গেছে, স্কুলটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। পুরাতন ভবনটি টিন শেডের। সেখানে ৪টি কক্ষ আর পাশের একটি পাকা ভবনের ৩টি কক্ষ। তার একটিতে অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। নতুন ভবনটি ২০০৫-০৬ অর্থ বছরে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু নিম্নমানের কাজ হওয়ায় ভবনটির মেঝের ঢালাই উঠে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানেই ঠাসাঠাসি করে বেঞ্চ বসানো হয়েছে। জানালা থাকলেও ভেঙ্গে গেছে। পাশের পুরাতন ভবনটির জীর্ণদশা। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী স্বপ্না খাতুন ও মোজাম্মেল জানায়, প্রতিদিনই বসার জন্য প্রতিযোগিতা করতে হয়। অনেক দিন তারা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে। বিদ্যুত্ না থাকায় শ্রেণিকক্ষে অন্ধকার লেগেই থাকে। গরমে ক্লাস করা যায় না। টিউবয়েলটি নষ্ট। স্কুলে ৩৪০ জন শিক্ষার্থী। তার মধ্যে ১৯৫ জন ছাত্রী। স্কুলে বেঞ্চ রয়েছে মাত্র ৪৫ জোড়া। একারণে শিক্ষার্থীরা বসে ক্লাস করতে পারে না। তাছাড়া শিক্ষার্থী অনুপাতে ৭ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও ৫ জন শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করতে হয়। শিক্ষকরা জানান, স্কুলটির সংস্কার কাজের জন্য ২০১০ সালে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু দায়সারাভাবে সংস্কার কাজ শেষ করায় মেঝের ঢালাই উঠে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে নানা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া জানালাগুলো ভেঙ্গে যাওয়ায় কয়েক দফা স্কুলে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হুমায়ন কবির খাঁন বলেন, স্কুলটির দৈন্যদশা নিয়ে শিক্ষা অফিসারকে অনেকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু সমাধান হয় না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকরামুজ্জামান, স্কুলটির দৈন্যদশার কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।