তাড়াশের ঐতিহ্যবাহী দই মেলার অতীত-বর্তমান

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৫
জমিদার আমলে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী তাড়াশের দই মেলা এখনও চালু রয়েছে। শ্রী-পঞ্চমীর সরস্বতী পূজা উপলক্ষে এবারও তাড়াশে দই মেলা গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সনাতন হিন্দু ধর্মালম্বীদের সংখ্যা আগের তুলনায় হ্রাস পেলেও প্রতিবছরই দইয়ের আমদানি ক্রমশ বাড়ছে। জানা যায়, তাড়াশের রায় জমিদারী প্রতিষ্ঠিত হবার পর দই মেলার গোড়া পত্তন। সেই থেকে কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত দই মেলার ঐতিহ্য বিদ্যমান রয়েছে। জমিদার আমলে দই মেলার ব্যাপক জাঁকজমক ছিল। এ মেলায় জমিদার ও আমলারা বোর্ড বসিয়ে মেলায় অংশগ্রহণকারী ঘোষদের গুণাগুণ যাচাই করত এবং শ্রেষ্ঠ দইয়ের পুরস্কার প্রদান করত। যার দরুন ঘোষরা তাদের দইয়ের গুণাগুণ যাচাইয়ের জন্য মেলায় অংশ নিত। তাড়াশ সদর গ্রাম ছাড়াও দই আসত বগুড়ার শেরপুর, সিংড়ার ডাহিয়া, চাটমোহরের অষ্টমিন্সা, শাহজাদপুর, বেড়া, ফরিদপুরের ডেমড়া, উল্লাপাড়ার ঘোষগাঁতী, বেলকুচি, রায়গঞ্জের ধানগড়া, গুরকা, গুরুদাসপুরসহ বিভিন্ন স্থান থেকে। আগে দইয়ের একচেটিয়া ক্রেতা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়। কিন্তু জমিদারদের পর থেকে হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায় মিলেই মেলার দই ক্রয় করে। তবে বর্তমানে দইয়ের অধিকাংশ ক্রেতাই মুসলমান। মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ই দই মেলাকে টিকিয়ে রেখেছে। এ বছর মেলায় বিভিন্ন স্থানের ৫২টি দইয়ের স্টল বসেছিল। দুধের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গতবারের চেয়ে দাম ছিল বেশি। মেলায় এবারও চিড়া-মুড়কি, ঝুরি ও পাটালী গুড়ের দোকান বসেছিল। দইয়ের সাথেই এসব সামগ্রীও বিক্রি হয়েছে গতবারের চেয়ে বেশি।