সাহসিকা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লাকি আক্তার

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৮:০৭
লাকি আক্তার। আমাদের বীরকন্যা। আমাদের সাহসিকা। এ প্রজন্মের জাহানারা ইমাম। নতুন দিনের অগ্নিকন্যা। শাহবাগ আন্দোলনের পরিচিত নাম। যার স্লোগানে বাঙালি জাতি আবার একই কাতারে এসেছে। গর্জে উঠেছে শিশু-কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বণিতা। তাঁর ক্লান্তিহীন ঝাঁঝালো কণ্ঠের তেজোদীপ্ত হুঙ্কার। ছড়িয়ে পড়ছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনায়। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। রূপসা থেকে পাটুরিয়া। স্লোগানকন্যার কণ্ঠের উত্তাপে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিও যেন হার মানছে। লাকি পড়ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। ইংরেজী ৮ম সেমিস্টারের ছাত্রী তিনি। জন্মেছেন ফেনীর সোনাগাজীতে। ঢাকার মালেকা বানু আদর্শ বিদ্যানিকেতন থেকে মাধ্যমিক এবং মাইলস্টোন স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। ২০০৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন তিনি। অনেক আগে থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ লাকি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলনে সোচ্চার হয় তার বলিষ্ঠ কণ্ঠ। এবার লাকির কণ্ঠের স্লোগান জগন্নাথের ছোট্ট ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে গেছে। তার কণ্ঠ শুনছে গোটা দেশ, গোটা বিশ্ব। লাকির আদর্শ তার মুক্তিযোদ্ধা বাবা। তেজোদ্দীপ্ত কণ্ঠে লাকি আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার কাছ থেকে আমি শুনেছি, মুক্তিযুদ্ধ কী এবং রাজাকারদের সম্পর্কে। আমি এ আন্দোলনে নেমেছি রাজাকারদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করতে।’ স্লোগান নিয়ে এ স্লোগানকন্যা বলেন, ‘একটা সময় স্লোগান দিতে লজ্জা লাগতো। ভালো স্লোগান দিতে পারতাম না। তবে ভাবতাম এক সময় আমি ঠিকই ভালো স্লোগান দেবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফি আন্দোলনের সময় স্লোগান দিতে দিতে ভালে স্লোগান দেয়া শিখে গেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনের সময় স্লোগান দেয়ার সময় ভাবি, কোন কথাটা স্ফূলিঙ্গের মতো ছড়াতে পারে। ছোট কথায় সেটি কত সহজে বলা যায়!’ আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই লাকির মতো স্লোগান দিতে চেষ্টা করছেন। এ প্রসঙ্গে লাকি বলেন, ‘এখন অনেকেই চেষ্টা করছেন ভালো স্লোগান দিতে। যদি আমার স্লোগান থেকে কেউ উজ্জীবিত হয়, সেটা আমার জন্য বড় পাওয়া।’ শুধু শাহবাগের এ আন্দোলনে নয় বরং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আন্দোলনেও লাকির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভাস্কর্য চত্বরে প্রায়ই তাকে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিতে দেখা যায়। সমস্যা জর্জরিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সবসময়ই আন্দোলন লেগেই থাকে। সব আন্দোলনেই তার বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর দেখা যায় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়টির একাধিক শিক্ষার্থী।