ন্যাটোর বিমান হামলার ওপর নিষেধাজ্ঞা কারজাই’র

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:০০
আফগানিস্তানের আবাসিক এলাকাগুলোতে ন্যাটোর বিমান হামলা না চালানোর উপর জারি করা ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। সোমবার তিনি এতে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে এতদিন দেশটিতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর অনুরোধে ন্যাটো যে আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালাতো তা বন্ধ হবে। দুইদিন আগে কারজাই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, ন্যাটোর বিমান হামলার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবেন তিনি। তারই ধারাবাহিকতায় এই নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর করা হলো। আবাসিক এলাকাগুলোতে ন্যাটোর বিমান হামলা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়। সমপ্রতি সেখানকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশে ন্যাটোর বিমান হামলায় ১০ বেসামরিক নাগরিক ও চার যোদ্ধা নিহত হয়। এরপর এ ধরনের হামলা বন্ধের জন্য সেখানে ব্যাপক দাবি উঠে। রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, কোন অবস্থাতেই, কোন আফগান নিরাপত্তা বাহিনী বিদেশি সৈন্যদের কাছে আমাদের বাড়ি-ঘর, গ্রামে বিমান হামলা চালানোর জন্য অনুরোধ জানাতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, আবাসিক এলাকায় আপনাদের কোন অভিযান পরিচালনার সময় আন্তর্জাতিক বাহিনীর কাছে কখনোই কোন বিমান হামলার জন্য তাদের কাছে সহায়তা চাইবেন না। কেননা এর সঙ্গে সাধারণ নিরীহ জনগণের নিরাপত্তা বিষয়টি ওেপ্রাতভাবে জড়িত। এক্ষেত্রে যৌথ বাহিনী তারা তাদের নিজস্ব দায়িত্বে বিমান হামলা পরিচালনা করবে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনী এক্ষেত্রে কোন অনুরোধ জানাবে না। এদিকে আফগানিস্তানে নিযুক্ত মার্কিন কমান্ডার জেনারেল জোসেফ ডানফোর্ড বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী এই নিষেধাজ্ঞার শর্ত মেনে কার্যকরভাবেই তাদের দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, কারজাইর এই সিদ্ধান্ত গত বছরে জেনারেল জন অ্যালেনের কৌশলগত নির্দেশনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ যা এই অঞ্চলে নিরীহ মানুষ হতাহতের সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের যৌথবাহিনী প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইর এ নির্দেশনা অনুযায়ী যথার্থভাবে কাজ করবে। সেইসঙ্গে আমাদের সঙ্গী আফগানিস্তানকে সাহায্য করার আরো অন্যান্য পথও আমাদের খোলা রয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক এই বাহিনী জানায়, গত জুনে আমরা যে বিমান হামলা চালিয়েছি তা কেবল আমাদের আত্মরক্ষার খাতিরে হয়েছে। কেননা এটি হচ্ছে আমাদের আত্মরক্ষার শেষ অস্ত্র। সেইসঙ্গে আমরা এটাও বলতে চাই যে অভিযানকালে আমরা কোন স্থাপনায় হামলা চালায়নি। কারণ এতে বেসামরিক লোক হতাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মিশন জানিয়েছে, শুধু ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত যৌথবাহিনীর বিমান হামলায় ৮৩ জন বেসামরিক লোক নিহত ও ৪৬ জন আহত হয়েছে।