সঠিক পরিচর্যার কারণে জাতীয় দলে পেসারের অভাব

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৬
পেস বোলারের অভাবটা ঘোচাতে গিয়েই হিমশিম খেতে হচ্ছে নির্বাচক কমিটিকে। ব্যাটিং কিংবা ফিল্ডিংয়ের চেয়েও এই বিভাগটি নিয়ে দুশ্চিন্তা বেশি তাদের। ইনজুরি তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে ভালোমানের পেসারের অভাবটাও। শ্রীলংকা সফরে ২৫জনের দল ঘোষণা করেছে নির্বাচক কমিটি, কিন্তু ২৫জনের মধ্যেও ভালোমানের পেসার পাননি নির্বাচকরা। প্রধান নির্বাচক আকরাম খান হতাশ কণ্ঠেই বলেছেন, ‘পেস বোলারের বিষয়ে আমরা এখনো অন্ধের মধ্যে আছি’। প্রধান নির্বাচকের হতাশাও স্বাভাবিক, কারণ মাশরাফি বিন মুর্তজার পর জাতীয় দলকে পেস আক্রমণে নেতৃত্ব দেয়ার মত পেসার খুঁজে পাননি তারা। শফিউল ইসলাম কিংবা রুবেল হোসেন অথবা শাহাদাত হোসেন রাজিবকে দিয়েও ভরসা নেই নির্বাচকের। জাতীয় দলের পেসারদের অভাবটা নতুন নয়। ঠিকমত পর্যবেক্ষণ এবং পরিচর্যার অভাবে পেসাররাও সেভাবে উঠে আসছে না। এরজন্য দায়ী বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। পেসার হান্ট দিয়ে পেসারদের খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া চালু করলেও বছর দুই পরে সেটিও আর আলোর মুখ দেখেনি। প্রধান নির্বাচক আকরাম খান অবশ্য পেসারদের নিয়ে আলাদা একটি কর্মশালার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন কিন্তু সেটিও বিসিবির দরজা থেকে বের হয়নি নানা জটিলতার কারণে। যে কারণে রুবেল, শাহাদাত, শফিউলদের বাইরে জাতীয় দলে ঢোকার মত কোন পেসারের আবির্ভাব ঘটেনি। এই কারণে তাদেরকে পড়তে হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী ইনজুরিতেও। বিসিবির ডাক্তার দেবাশিষ চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী পেসারদের এই সমস্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে, তাদেরকে ঠিকমত পর্যবেক্ষণ না করা। গতকাল মঙ্গলবার তিনি ইত্তেফাককে বলেন,‘আমাদের পেসারদের পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। তাদেরকে পরিচর্যার কাজটিও সঠিকভাবে করা হয় না। তাছাড়া পেসারদের এই সমস্যা দূর করার জন্য আমি বিসিবিকে দীর্ঘমেয়াদী একটি প্রশিক্ষণের কথা বলেছি। যেহেতু পেসারদের জন্য আলাদা কিছু হচ্ছে না তাই শফিউল, রুবেল, শাহাদাতের উপর থেকে ভরসা কমাতে হলে পেসারদের খুঁজে বের করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি করতে পারলে ইনজুরির সমস্যাও কমবে’। ইনজুরির কারণে এখনো মাশরাফি দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেট খেলতে পারছেন না। ইনজুরির সমস্যায় ভুগছেন শফিউলও। তার পায়ের গোড়ালিতে ব্যথা, এটা চিরতরে দূর করতে হলে দীর্ঘমেয়াদী চিকিত্সা প্রয়োজন। শফিউলের এই ইনজুরি শ্রীলংকা সফরে টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে শংকা থেকেই যাচ্ছে। রুবেল দুইমাস চিকিত্সা নেয়ার পরও আগের মত ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন না। এদেরকে যদি শুরু থেকে সঠিকভাবে পরিচর্যা করা যেত তাহলে এত দ্রুত এরা ইনজুরিতে পড়তো না বলে জানালেন বিসিবির ডাক্তার। উদাহরণ হিসেবে নতুন পেসার তাসকিন আহমেদের প্রসংগ টেনেছেন বিসিবির এই ডাক্তার। তিনি বলেন, ‘তাসকিন উদীয়মান পেসার। এবারের বিপিএলে সে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু বিপিএলে তাকে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সেও যে কোন সময়ে ইনজুরিতে পড়তে পারেন’। জাতীয় দলে পেসারের অভাব ঘোচাতে অবশ্য বিসিবি খুব শীঘ্রই পেসারদের নিয়ে আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে। এর দায়িত্ব দিতে পারে জাতীয় দলের সাবেক কোন খেলোয়াড়কে। শ্রীলংকা সফরের পর অর্থাত্ এপ্রিল থেকে এই কার্যক্রম শুরু করার কথা ভাবছে বিসিবি। সেটা পেসার হান্টের মতই কোন প্রশিক্ষণ হতে পারে বলে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে।