বাজারে হঠাৎ চিনিগুঁড়া ও কাটারিভোগ চালের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চিনিগুঁড়া বস্তাপ্রতি (৫০কেজি) প্রায় ৮০০ টাকা ও কাটারিভোগ (৫০ কেজি) ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দেশের কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠান কৃষক পর্যায়ে এসব চাল সংগ্রহ করছে। পরে তারা প্যাকেটজাত করে খুচরা বাজারে বিক্রি করে থাকে। তাদের কারণে এই দুই ক্যাটাগরির চালের দাম হঠাৎ বেড়ে গেছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান।
অন্যদিকে ধানের এখন ভরা মৌসুম। ফলে অন্যান্য ধান ও চালের দাম কম। সরকারি ভাবে কেজি ৩৬ টাকা দরে চাল কেনার ঘোষণা দেওয়া হলেও এখনো সংগ্রহ শুরু হয়নি। এই সুযোগে মিল মালিকরা কৃষক থেকে ব্যাপক হারে কম দামে ধান কিনে মজুদ করছে। এতে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। ফলে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে চিনিগুঁড়া ও কাটারিভোগের দাম সাধারণ ক্রেতাদের আয়ত্তের বাইরে চলে গেছে। বিয়ে ও নানা অনুষ্ঠানে এবং ঘরোয়া উত্সবে মানুষ এসব চাল ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু হঠাত্ দাম বৃদ্ধিতে বেকায়দায় পড়েছেন খুচরা ক্রেতারা। চাল ব্যবসায়ীরা জানান, ২ সপ্তাহ আগে চিনিগুঁড়া চাল বস্তাপ্রতি (৫০কেজি) দাম ছিল ৪ হাজার টাকা। আর এখন দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০০ টাকায়। আর কাটারিভোগ (৫০কেজি) বস্তা ৩ হাজার থেকে বেড়ে ৩৩০০ থেকে ৩৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে বস্তায় বেড়েছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, কিছু মুনাফালোভী ব্যবসায়ীর মজুদদারীর কারণে হঠাৎ এসব চালের দাম বেড়ে গেছে। চিনিগুঁড়া চাল প্রধানত দিনাজপুরে বেশি উত্পাদন হয়ে থাকে। দেশে গুটিকয়েক বৃহৎ শিল্প গ্রুপ চিনিগুঁড়া চাল প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করে থাকে। প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া চাল খুচরা বাজারে কেজি ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এখন মৌসুমের সময়ে এসব কোম্পানি কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি চিনিগুঁড়া চাল সংগ্রহ করে মজুত করতে শুরু করেছে। ফলে বাজারে এই চালের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে বলে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে পাহাড়তলী বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন ইত্তেফাককে বলেন, ‘দেশের কয়েকটি বড় বড় কোম্পানি চিনিগুঁড়া ও কাটারিভোগ চাল বাজার থেকে ব্যাপক হারে সংগ্রহে নেমেছে। তারা এসব চাল প্যাকেটজাত করে চড়া দামে বিক্রি করছে। এই দুই ক্যাটাগরির চাল গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। আবার ভরা মৌসুমের কারণে এখন বাজারে ধান-চালের দাম কম রয়েছে। এই সুযোগে মিল মালিকরা কম মূল্যে কৃষক থেকে ধান সংগ্রহ করে মজুদ করছে। কৃষক বাঁচাতে সরকারকে দ্রুত চাল সংগ্রহ করা প্রয়োজন।’
এদিকে সরকারি ভাবে ধান-চাল সংগ্রহের কর্মসূচি গত ২৫ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো চট্টগ্রামে সংগ্রহ কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে শুরু হয়নি। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে চট্টগ্রামে কিছুটা বিলম্বে বোরো কাটা শুরু হয়। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে কেজি ৩৫ টাকা দরে ১০ হাজার টন আতপ ও ৩৬ টাকা দরে প্রায় ৪ হাজার টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের টার্গেট রয়েছে। মিল মালিকদের কাছ থেকে এসব চাল সংগ্রহ করা হবে। জানা গেছে, মৌসুমের কারণে ধানের দাম কম রয়েছে। বর্তমানে প্রতিমণ ধান ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ আগে এসব ধান প্রতিমণ ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। ফলে দাম কম থাকায় মিল মালিকরা এখন ব্যাপক হারে ধান সংগ্রহ করে মজুদ করতে শুরু করেছে।
