একজন নারী মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে নির্মিত হলো চলচ্চিত্র ‘হূদয়ে ৭১’। রোকেয়া ইসলামের রচনা এবং মির্জা রাকিবের কাহিনীবিন্যাস ও সংলাপে এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সাদেক সিদ্দিকী। ঢাকার দোহার উপজেলার কার্তিকপুরে এবং উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে এই চলচ্চিত্রের শুটিং হয়েছে। এর লোকেশন ঘুরে এসে লিখেছেন খালেদ আহমেদ
মুক্তিযুদ্ধ ও একাত্তরের আদর্শ বুকে নিয়ে, যুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশকে দেখতে আসে মল্লিকা। মাহমুদের বাড়িতে ওঠে। মাহমুদ তার একসময়ের সহযোদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ। সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। আর পারিবারিক জীবনে বিপত্নীক। দুই ভার্সিটি পড়ুয়া ভাগ্নি রিয়া আর পিয়াকে নিয়ে তার জীবন। রিয়া-পিয়াও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ করছে নিজেদের মধ্যে। তারা শহীদ পরিবারের সদস্য। যুদ্ধের সময় পাক সেনাদের হাতে বাবা-মাকে হারিয়েছে। সেই থেকে মামা মাহমুদের স্নেহে ভালোবাসায় বড় হয়েছে দুই বোন। তাদের পছন্দের মানুষ আছে। নাম রেজা ও সাগর। এই দুই যুুবকও স্বাধীনতার আদর্শকে লালন করছে নিজেদের মধ্যে। মল্লিকা একজন বীরাঙ্গনা। একজন নারী মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরের জীবন যুদ্ধের গল্প শোনায় সে নতুন প্রজন্মকে। সেই সূত্রে উঠে আসে, বান্ধবী মিলি ও রাজাকার আজমলের কথা। উঠে আসে মেজর মুরতাদ ও আরেক রাজাকার রশিদের কথা। মল্লিকা, মাহমুদ, মিলি একই গ্রামের বাসিন্দা। মল্লিকা মাহমুদকে ভালোবাসলেও মুখ ফুটে কোনোদিন বলতে পারেনি। যখন বলার সময় হয়, তখন সে দেখে মাহমুদ মিলিকে ভালোবাসে। ততদিনে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। গ্রামে পাকবাহিনী ঢোকে। আজমল ও তার ভাহিজা রশিদ, রাজাকারের খাতায় নাম লেখায়। তারা নিরীহ মানুষদের রাজাকারের খাতায় নাম লেখাতে না পেরে হত্যা করেছে। অনেক মানুষের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। অনেক মা-বোনকে নিজেরা ধর্ষণ করেছে, পাক সেনাদের হাতেও তুলে দিয়েছে। মল্লিকা যুদ্ধ করতে গিয়ে এদের প্রতিহিংসা ও লালসার শিকার হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হয়। মাহমুদ মিলিকে বিয়ে করে। বীরাঙ্গনা মল্লিকাকে এক সাংবাদিক বিদেশে নিয়ে যায়। অনেক বছর পর মল্লিকা বাংলাদেশে আসে। এমনি গল্প নিয়ে নির্মিত হলো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হূদয়ে ৭১’ । রোকেয়া ইসলামের রচনা, মির্জা রাকিবের কাহিনি বিন্যাস ও সংলাপ এবং সাদেক সিদ্দিকীর পরিচালনায় এই চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন ইমন, রোমানা, আন্না, সাগর, সাইফ খান, রাখী, শহীদুল আলম সাচ্চু, হীরা, আশরাফ কবীর, আব্বাসউল্লাহ, মারুফ, আমীর, উদয় খান, নিশু রহমান আরও অনেকে। এই চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন হয়েছে ঢাকার দোহার উপজেলার কার্তিকপুরে এবং উত্তরার বিভিন্ন লোকেশনে। বর্তমানে এডিটিং চলছে। চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে পরিচালক সাদেক সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘এক নারী মুক্তিযোদ্ধার গল্প নিয়ে এই চলচ্চিত্র। এখানে তার জীবনের নানা ঘটনা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করছি এটা দর্শকদের ভালো লাগবে। সবমিলিয়ে এটি দর্শকদের জন্য একটি আলাদা চমক হবে।’ উল্লেখ্য ‘হূদয়ে ৭১’ চলচ্চিত্রটি ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসে এটিএনবাংলায় ওয়ার্ল্ড থ্রিলার হবে।
