বিশ্বের সব বড় বড় ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের মধ্যে একটি হলো বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ১৯৫১ সাল থেকে পথচলা শুরু করা এই ফিল্ম ফেস্টিভ্যালটির ৬৩তম আসর বসতে যাচ্ছে জার্মানির বার্লিনে। সেখানে চমক হিসেবে থাকছে ওয়াং কার ওয়াইয়ের ‘দ্য গ্র্যান্ডমাস্টার’। লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
৬৩তম বার্লিনালে শুরু হচ্ছে, আর্ট ফিল্ম অনুরাগীদের প্রিয় চীনা চিত্রপরিচালক ওয়ং কার ওয়াইয়ের একটি কমার্শিয়াল আর্টস এপিক দিয়ে। ছবিটির নাম ‘দ্য গ্র্যান্ডমাস্টার’। বার্লিনালেতে যে ১৯টি ছবি এবার প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে বড় বাজেটের হলিউড ছবি থেকে শুরু করে নামকরা ইউরোপীয় চিত্রপরিচালকদের নতুন ছবি এবং আনকোরাদের প্রথম ছবি। ১১ দিন ধরে চলবে এই চলচ্চিত্র উত্সব। উত্সবের সেরা পুরস্কার গোল্ডেন বিয়ার বা স্বর্ণভল্লুক দেওয়া হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি। সব মিলিয়ে ৪০০ ফিল্ম দেখানো হবে এই বার্লিনালেতে। এ ছাড়াও এই বার্লিনালেতে জুরি হিসেবে থাকছেন শিরিন নেশাল। ছবি দেখার চাইতে যারা তারকাদের দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য থাকছেন ম্যাট ডেমন, জুড ল, ইথান হক, নিকোলাস কেজ, এমা স্টোনের মতো তারকারা। দেনোভ আর বিনোশের নাম তো আগেই করা হয়েছে। ওদিকে স্বনামধন্য চিত্রপরিচালক স্টিভেন সডারবার্গ আবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, জুড ল ও ক্যাথরিন জেটা-জোন্স নিয়ে তৈরি ‘সাইড এফেক্টস’-ই নাকি তার ‘শেষ’ ছবি। এর পরেই তিনি অবসর নেবেন বলে ঠিক করেছেন।
তালিকায় রয়েছে ‘অন মাই ওয়ে’ ছবিটি। ইউরোপে খ্রিস্টধর্ম, গির্জা, মঠ ইত্যাদি চিরকালই ছবির বিষয় হয়ে থাকে, বিশেষ করে সমালোচনামূলক ছবির। ‘দ্য নান’ ছবিটিতে ইসাবেলা হুপার্ট এক মাদার সুপিরিয়র বা মঠাধ্যক্ষার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, যিনি এক নভিস বা নতুন নানের প্রেমে পড়েছেন। পোল্যান্ড থেকে আসছে ‘ইন দ্য নেম অফ’ শীর্ষক একটি ছবি। ছবির পরিচালক মাওগোস্তা জুমোভস্তা কিন্তু নিজে মহিলা। বস্তুত বার্লিনালের অনেক ছবিই যে মহিলাদের নিয়ে কিংবা মহিলাদের তৈরি, সে ব্যাপারে বার্লিনালের পরিচালক ডিটার কসলিক খানিকটা গর্বিত অবশ্যই গতবছরের কান চলচ্চিত্র উত্সবে মহিলা চিত্রপরিচালকদের প্রায় বাদ দেওয়া হয়েছিল বলে।
নানা রঙে রঙিন বার্লিনালে ২০১৩ ১২ বছর আগে দিয়েছিলেন ‘ইন দ্য মুড ফর লাভ’। সে ভালোবাসা ছড়িয়ে ছড়িয়ে এবার ওয়ং কার-ওয়াই চলে এসেছেন বার্লিনালেতে। এসেই বাজিমাত করে দিয়েছেন মার্শাল আর্টের জাদুকরদের গল্প শুনিয়ে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে জার্মানির বার্লিনে শুরু হয়েছে চলচ্চিত্র উত্সব বার্লিনালে। ‘প্রেসিডেন্ট’ ওয়ং কার-ওয়াই, হ্যাঁ, তিনিও ‘প্রেসিডেন্ট’, তবে কোনো দেশের নয়, বিচারকদের নেতা তিনি। এবারের উত্সবে জুরি বোর্ডের সভাপতি ওয়ং কার-ওয়াই। নিজে পরিচালক, হংকং-এর নাগরিক ওয়ং-এর সর্বশেষ ছবি, ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ দেখানো হয়েছে প্রথম দিনে। মূল প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হলেও পুরো ১১ দিনই দেখানো হবে ছবিটি। প্রথম দিনেই বোঝা গেছে বাকি দিনগুলোতেও দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেই থাকবে ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’। ব্রুস লি-র অবিশ্বাস্য সব মারামারির আকর্ষণ বলে কথা!
ছবির কাহিনিতে উঠে এসেছে মার্শাল আর্ট ‘কুং ফু’-র ইতিহাস। আর কুং ফু-র ইতিহাস যে ব্রুস লি না থাকলে শেষ হয়ই না, তা কে না জানেন! ব্রুস লিকে কুং ফু শিখিয়েছিলেন ইপ ম্যান। তাকেও দেখা যাবে ছবিতে। দু’জনই প্রয়াত। স্বাভাবিকভাবেই তাদের চরিত্র রূপায়ণে বাড়তি শ্রম দিতে হয়েছে, নিষ্ঠার ছাপ রাখতে হয়েছে অভিনেতাদের। ব্রুস লি-র চরিত্র রূপায়ণ করেছেন হংকং-এর হার্টথ্রব টনি লিউং। এটা বড় এক চ্যালেঞ্জ ছিল তার সামনে। দর্শকদের কাছে ব্রুস লি-র মতো হয়ে ওঠা তো চাট্টি খানি কথা নয়। বার্লিনের সংবাদ সম্মেলনে টনি লিউং জানালেন এ জন্য নাকি ৪৬ বছর বয়সে কুং ফু শেখা শুরু করতে হয়েছে তাকে। অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন চারটি বছর। তারপর এক বছর আট মাস ধরে চলেছে ছবির শুটিং। তখন কিছু ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যে অভিনয় করতে গিয়ে হাত ভেঙে যায়।
ছবির মুখ্য অভিনেত্রী ঝাং জি-ও কুং ফু শিখেই দাঁড়িয়েছেন ক্যামেরার সামনে। ফলে রুপালি পর্দার ব্রুস লি-র পাশে তাকেও কখনোই বেমানান মনে হয়নি। টনি লিউং আর ঝাং জি তো ছবির দুটি মাত্র চরিত্র। বাকি যারা অভিনয় করেছেন তাদের কাছ থেকেও সেরা কাজটিই আদায় করে নিয়েছেন পরিচালক ওয়ং কার-ওয়াই। ‘গ্র্যান্ডমাস্টার’ তাই তো বার্লিনালের শুরু থেকেই টানতে পারছে দর্শকদের।
২৬ ফেব্রুয়ারি :ইমতু রাতিশ
২৮ ফেব্রুয়ারি :আফিয়া নুসরাত বর্ষা
শম্পা হাসনাইন
