গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের অভিযোগ

মেয়াদোত্তীর্ণ স্বীকৃত বিলের অর্থ দিচ্ছে না ব্যাংক

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩১
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মেয়াদোত্তীর্ন স্বীকৃত বিলের অর্থ পরিশোধ করছে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বিশেষ করে তৈরী পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংক ঋণে সুদের হার বেশির কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এজন্য ঋণের সুদের হার কমিয়ে এনে এবং স্বীকৃত বিলের অর্থ পরিশোধ করার মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেছেন বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠনের নেতারা। গভর্নর ড. আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডেপুটি গর্ভনর এস কে সুর চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের চলমান সমস্যা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, সহসভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, বিকেএইএ সহ সভাপতি এ এইচ আসলাম সানী, বিটিএমইএ সহসভাপতি আবদুল মান্নান মিয়া ও মাহবুব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, অনেক যৌক্তিক কারণে কখনো-কখনো রফতানি বিলের অর্থ দেশে আসতে দেরি হয়। তবে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর থেকে এক ব্যাংকের প্রতি অন্য ব্যাংকের আস্থার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এতে করে এক দিকে স্বীকৃত অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয় (আইবিপি) করতে রাজি হচ্ছে না, অন্য দিকে বিল পরিশোধের সময় পেরিয়ে গেলেও যাচাই-বাছাইর নামে তা পরিশোধ করছে না। ব্যাংকের এ পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্প ব্যবসায় এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরী করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অল্প কয়েকজন দুষ্ট ব্যবসায়ীর কারণে সব ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তবে দুষ্ট লোকের সংখ্যা খুবই কম। এজন্য দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন করার কথা বলেন তিনি। মূল্যস্ফীতি এক অংকে নামলেও ব্যাংকের সুদ হার আগের মতই আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমানতে সুদের হার ও ঋণে সুদের হারের ব্যবধান (স্প্রেড) কমাতে হবে। অন্যদিকে সম্প্রতি খেলাপী ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক যে নিয়ম করেছে তাতে খেলাপী হওয়ার সময়সীমা কমানো হয়েছে। কিন্তু রাস্তাঘাট, বিদ্যুত-গ্যাস, অবকাঠামো প্রভৃতি প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে গার্মেন্ট ব্যবসা করতে হয়। এজন্য গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের ওই নিয়মের মধ্যে না রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রসঙ্গত, সর্বশেষ হিসেবে চার হাজার কোটি টাকার বেশি বিলের অর্থ ব্যাংকগুলোতে আটকে আছে। গতকালের বৈঠকে মেয়াদোত্তীর্ণ সব স্বীকৃত বিলের দায় পরিশোধের জন্য শিগগিরই ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়ার আশ্বাস দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।