দেশে মাছ, মাংস, দুধ ও ডিমের উত্পাদন বাড়লেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির জন্য এসব প্রোটিন জাতীয় খাদ্যদ্রব্যের বিপুল পরিমাণ ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে। গরিবের আমিষ বলে পরিচিত ডালের ঘাটতিও বিপুল পরিমাণ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যে জানা যায়, দেশে দুধের উত্পাদন বাড়ছে। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দুধের মোট উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ২২ লাখ ৯০ হাজার টন। দৈনিক মাথাপিছু আড়াইশ’ মিলিলিটার হিসাবে দেশে দুধের বার্ষিক চাহিদা এক কোটি ৩৫ লাখ টন। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে দুধের উত্পাদন ছিল ৩৪ লাখ ৬০ হাজার টন। মোট দুধ ঘাটতির পরিমাণ ছিল এক কোটি ৪০ হাজার টন। আর গত অর্থবছরে দুধের দৈনিক গড়ে মাথাপিছু প্রাপ্যতা ছিল ৬৪ দশমিক ১১ মিলিলিটার।
দৈনিক মাথাপিছু একশ’ ২০ গ্রাম হিসাবে বছরে মাংসের চাহিদা ৬৪ লাখ ৮২ হাজার টন। ২০০৮-২০০৯ সালে মাংস উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৮০ হাজার টন। ২০১১-২০১২ সালে বেড়ে হয় ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। ওই বছর মাংসের ঘাটতি ছিল ৪১ লাখ ৫০ হাজার টন। আর মাথাপিছু মাংসের প্রাপ্যতা ছিল ৪৩ দশমিক ১৭ গ্রাম। বছরে মাথাপিছু একশ’ ৪টি হিসাবে দেশে ডিমের বার্ষিক চাহিদা ১৫শ’ ৩৯ কোটি ২০ লাখটি। ২০০৮-২০০৯ অর্থবছরে দেশে ডিমের উত্পাদন ছিল ৪শ’৬৯ কোটি ৬০ হাজারটি। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে ডিমের উত্পাদন বেড়ে হয় ৭শ’ ৩০ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজারটি। ডিম ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৮শ’ ৮ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজারটি। আর ডিমের বার্ষিক মাথাপিছু গড় প্রাপ্যতা ছিল ৪৯ দশমিক ৩৫টি।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী দেশে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও হাঁস- মুরগির সংখ্যাও বেড়েছে। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছরে গরুর সংখ্যা ছিল দুই কোটি ২৮ লাখ, মহিষের সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৬০ হাজার, ছাগল ছিল এক কোটি ৯৯ লাখ ৪০ হাজার, ভেড়া ছিল ২৫ লাখ ৭০ হাজার, মোরগ-মুরগী ছিল ১৯ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার এবং হাঁস ছিল ৩ কোটি ৮১ লাখ ১০ হাজার। ২০১১-২০১২ অর্থবছরে গরুর সংখ্যা বেড়ে হয় দুই কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার, মহিষ হয় ১৪ লাখ ৪৩ হাজার, ছাগল হয় দুই কোটি ৫১ লাখ ১৬ হাজার, ভেড়া হয় ৩০ লাখ ৮২ হাজার, মোরগ-মুরগী হয় ৫ কোটি ২৮ লাখ ৩৫ হাজার এবং হাঁসের সংখ্যা বেড়ে হয় ৪৫ লাখ ৭০ হাজার। দেশে পোলট্রি শিল্পের বিকাশের ফলে মোরগ-মুরগীর সংখ্যা এবং ডিম-মাংসের উত্পাদনের পরিমাণ বেড়েছে। তারপর লোকসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে কুলানো যাচ্ছে না। বর্তমানে দেশে মাছের উত্পাদনও বেড়েছে। মত্স্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী বার্ষিক মাথাপিছু মাছের চাহিদা ২০ কেজি ৪৪ গ্রাম হিসাবে ৩২ লাখ ৭২ হাজার টন। ২০১০-২০১১ সালে মাছের উত্পাদন ছিল ৩০ লাখ ৬১ হাজার ৬৮৭ টন। বর্তমানে বার্ষিক মাথাপিছু গড় প্রাপ্যতা ১৮ দশমিক ৯৪ কেজি। অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় নদী, খাল, বিল ও বাঁওড় থেকে ধৃত মাছের পরিমাণ ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৫৮৫ টন, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছের পরিমাণ ছিল ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৪ টন ও সামুদ্রিক মাছ আহরণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৩ টন। দেশে আহরিত ইলিশের পরিমাণ বেড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন হয়েছে। মাছের উত্পাদ বাড়লেও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সস্তা প্রোটিন হচ্ছে ডাল। তারও এখন আক্রা। দৈনিক মাথাপিছ ু৪৫ গ্রাম হিসাবে ডালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ টন। গত বছর দেশে ডাল উত্পাদনের পরিমাণ ছিল ৬ লাখ ৬৫ হাজার টন। ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৯ লাখ টন।
