বিয়ানীবাজারে বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৭
সুরমা, কুশিয়ারা ও সুনাই নদীর ভাঙ্গনে বিয়ানীবাজারের নদী তীরবর্তী ১৭৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে হাজার হাজার একর ফসলের মাঠ ও বিস্তীর্ণ জনপদ হুমকির সম্মুখীন। নদী ভাঙ্গনে ইতিমধ্যে অসংখ্য মানুষ হয়েছে ভূমিহীন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২টির বেশি বাজারসহ কয়েকটি মাজার, বসতবাড়ি ও বিদ্যালয়। একদিকে ভাঙ্গছে নদী আর অপর দিকে বাড়ছে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কান্নার ঢেউ। জানা যায়, ভারতের আসাম রাজ্যের বরাক উপত্যকা থেকে নেমে আসা বরাক নদী জকিগঞ্জ সীমান্তের অমলসীদ এলাকায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদী নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। অতীতে বরাক থেকে নেমে আসা জলরাশি সমভাবে সুরমা, কুশিয়ারা দিয়ে প্রবাহিত হতো। সুরমার উত্স মুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও নাব্যতা কমে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বরাকের ৮০ ভাগ জলই কুশিয়ারা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে বরাক থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোতের তোড়ে কুশিয়ারার ভাঙ্গন তীব্রতর হচ্ছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর করালগ্রাসে বিয়ানীবাজারের দুবাগবাজার, নয়াদুবাগ, মেওয়া, চরিয়া, গজুকাটা, শেওলা বাজার, কানাকানির বাজার, শাহজালাল বাজার, বৈরাগীবাজার, গোবিন্দশ্রী বাজার, দেউলগ্রাম বাজার, কুড়ারবাজার, ফাড়িরবাজার, ঢেউনগর, বালিঙ্গা, শালেশ্বর, কাকরদি, আঙ্গারজুর, মালারগ্রাম, আকাখাজনা, লাউঝারী, তেরাদল, বানিগ্রাম, নেরাউদি, লামলীগ্রাম, পালকোনা, দত্তগ্রাম, পাঞ্জেপুরি, দীঘলবাক, ফুলমলিক সুরমা নদীর ভাঙ্গনে রামধা বাজার ও গদারবাজার এবং সুনাই নদীর ভাঙনের শিকার, সারোপার বাজার ও সারোপার বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকইকোনা, আভঙ্গি, বাড়ুদা, কাংলিবাজার, ইটাউরি কাংলি হাইস্কুল, কালাইউরা, থানাবাজার, বারইগ্রাম বাজার, শানেশ্বর-দেবারাইসহ ১৭৫টি গ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জমিজমা হারিয়ে প্রায় ২৫ হাজার ভূমিহীন লোক মানবেতর জীবন-যাপন করছে। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে তীরে বসবাসকারী জনসাধারণ উদ্বেগ উত্কণ্ঠার মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।