কক্সবাজার শহরের তিন চতুর্থাংশ এলাকার দেড় লক্ষাধিক মানুষ এখন না ‘ঘরকা না ঘাটকা’। তারা নামে পৌরসভার অধিবাসী। কিন্তু তাদের কোন জনপ্রতিনিধি নেই। নেই নাগরিক কোন সুবিধা। সূত্র জানায়, মাত্র ২.৪ বর্গমাইল এলাকা নিয়ে ১৮৬৯ সালে কক্সবাজার পৌরসভা গঠিত হলেও এর ১৩৬ বছর পর ২০০৫ সালে সম্প্রসারণ করা হয় পৌর এলাকা। শহরের বৃহত্তর কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া, নাজিরারটেক, ফদনার ডেইল, উত্তর নুনিয়ারছড়া, মধ্যম নুনিয়ারছড়া, ফিশারিঘাট, রুমালিয়ারছড়া, এসএম পাড়া, গোদারপাড়া, বনরূপাপাড়া, চৌধুরীপাড়া, মল্লিকপাড়া, সিকদারপাড়া, পেতা সওদাগরপাড়া, বড়ুয়াপাড়া, ডিককুল, নাপ্পাঞ্জাপাড়া, এবিসি ঘোনা, সাহিত্যিকা পল্ল¬ী, খাজা মঞ্জিল, হালিমাপাড়া, বাদশার ঘোনা, ঝাউতলা গাড়ির মাঠ, হোটেল মোটেল জোন, কলাতলী, লাইট হাউজ, সৈকতপাড়া, হ্যাচারি জোন, আদর্শ গ্রামসহ শহরতলীর বৃহত্তর অঞ্চল ঝিলংজা ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্ধিত পৌর এলাকা নিয়ে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু গত ২৫ মাসেও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব না পাওয়ায় বর্ধিত পৌর এলাকার লোকজন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কক্সবাজার পৌর এলাকার ১নং ওয়ার্ডে বসবাস প্রায় ৪০ হাজার মানুষের। ২নং ওয়ার্ডেও বসবাস করেন প্রায় ২০ হাজার মানুষ। একইভাবে বর্ধিত এলাকার অন্য ওয়ার্ডসমূহও জনবহুল। কিন্তু জনপ্রতিনিধি না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট তৈরিসহ প্রয়োজনীয় নানা কাজে জনপ্রতিনিধিদের স্বাক্ষর নিতে পৌরসভায় গিয়ে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একই কারণে বন্ধ রয়েছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও।
এ ব্যাপারে কক্সবাজার পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর এসআইএম আকতার কামাল আক্ষেপ করে বলেন, বর্ধিত পৌরসভার লোকদের জন্মই যেন আজন্ম পাপ।
