চুলপড়া সমস্যা-২৫

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ১৯:৩৪
চুলপড়া সমস্যা শুধু বড়দের হয়, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েদের হয় তাই নয়, শিশুদেরও চুলপড়তে পারে, চুল পাকতে পারে। আমরা আজ শিশুদের চুলপড়া সমস্যা নিয়ে লিখবো। শিশুদের চুলপড়া সমস্যা তুলে ধরার আগে চুলের ক্রম বিকাশ নিয়ে কিছু সাধারণ তথ্য জানাতে চাই। শিশু মাতৃগর্ভে আসার ৩ মাসের মধ্যে কপালে হেয়ার ফলিকিউল আসতে শুরু করে। ৪র্থ মাসে মাথা ও শরীরে হেয়ার ফলিকিউল দেখা দেয়। ১৭ সপ্তাহ ও ১৮ সপ্তাহে মুখ ও মাথার চুলের কান্ড দেখা দেয়। জন্মের আগমুহুর্তে নবজাতকের মাথায় মোটামোটি চুলগজিয়ে যায়। শিশু জন্মের প্রথম ৬ মাসের মধ্যে কিছু চুলপড়া শুরু হয় (পোস্ট নেটাল শেডিং) এবং এই সময়ের মধ্যে শিশুর মাথায় পরিপূর্ণ চুল দেখাদেয়। বড়দের মত শিশুদেরও নানা কারণে চুল পড়তে পারে। শিশুদের চুলপড়া সমস্যা সাধারণত: মায়েদের অথবা যারা শিশুদের যত্ননেন তাদের প্রথমে নজরে আসে। যেসব সমস্যা পরিলক্ষিত হয় তন্মধ্যে শিশুর চুলের কান্ডের (হেয়ার শ্যাফট) সমস্যা যেমন; চুলের কান্ডের মাঝখান থেকে ভেঙ্গে যাওয়া, চুলের আগা ফেটে যাওয়া, চুলে চিরুনি ব্যবহার করা না যাওয়া, স্ট্রেইট হেয়ার নেভাস, হালকা রেশমী চুল ইত্যাদি। এছাড়া রয়েছে শিশুর চুলের গঠনগত ক্রটি যেমন; নেভাস সেবাসিয়াস, অ্যাপলাসিয়া কিউটিস ইত্যাদি। শিশুদের হতে পারে এলোপেশিয়া এরিয়েটা বা মাথার চুল ডিম্বাকৃতি অথবা গোলাকৃতি হয়ে পড়ে যাওয়া যা গ্রামে-গঞ্জে, এমনকি শহরের অনেকেই এটাকে পোকায় চুল খেয়েছে বলে মনে করেন। ফাংগাল ইনফেকশনের জন্যও চুল পড়তে পারে। সাধারণত: এধরণের চুলপড়া মাথায় আইব্রু ও আইলাসে হতে পারে। অনেক সময় এলোপেসিয়া এরিয়াটা ও চুলের ফাংগাল ইনফেকশন (টিনিয়া ক্যাপিটিস)-এর মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। আর টিনিয়া ক্যাপিটিস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য এক ধরণের চুলপড়া। শিশুদেরও থাকতে পারে ট্রাইকোটেলোমেনিয়া বা নিজের চুল নিজে টেনে ছেড়ার অভ্যাস। এছাড়া শিশুদেরও বড়দের মত বয়স বাড়ার সঙ্গে বা সাবালকত্ব প্রাপ্তির আগে চুল পড়তে পারে যাকে বলা হয় ডিফিউজ হেয়ার লস বা প্রিপিউবার্টাল হেয়ার লস। শিশুদের বয়স ২ বছর পার হওয়ার পর থেকে সহজে চুল পড়ে বা চুল ধরলে হাতে চুল চলে আসে এই অবস্থাকে বলা হয় লুজ এনাজেন সিনড্রোম। আর শিশুদের এ ধরণের চুলপড়া সমস্যা যথাযথ পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্ত করা যায়। যেমন: আমরা শিশুদের চুলপড়া সমস্যা নির্ণয়ে ট্রাইকোগ্রাম করতে পারি। এধরণের পরীক্ষায় প্রিডমিনেট এনাজেন হেয়ার, এনাজেন হেয়ারে কিউটিক্যাল-এর অনুপস্থিতি দেখা যায় যদি আমরা কোন লাইট অথবা ইলেক্ট্রনিক মাইক্রোসকোপের সাহায্যে নিতে পারি। তবে শিশুদের চুলপড়া সমস্যা ছাড়া আজকাল অনেক শিশুর চুল সাদা হয়ে যাচ্ছে। যদিও সাদা চুলের তেমন কোন বিজ্ঞান সম্মত চিকিত্সা নেই। তারপরও কি কারণে চুল পেকে যাচ্ছে তা সনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে চিকিত্সা দেয়া সম্ভব। এছাড়া বড়দের মত শিশুদের মাথায় খুশকি হতে পারে, মাথার ত্বকে সেবারিক ডার্মাটাইটিস সহ নানা কারণে চুলপড়তে পারে। তবে শিশুদের চুলপড়া সমস্যা নিয়ে অভিভাকরা যথেস্ট উদ্বিগ্ন থাকলেও করণীয় বুঝতে হিমশিম খান। ছুটে যান শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে। অনেকে যান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছেও। আমি সব সময় বলে আসছি চুল বিজ্ঞান বা বা হেয়ার সায়েন্স যথেষ্ট জটিল। যথাযথ কারণ বের না করে চিকিত্সা দেয়া হলে ফলাফল পাওয়া কঠিন। তাই শিশুদের চুলপড়া সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই অবহেলা না করে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া উচিত। ডা: মোড়ল নজরুলইসলাম চুলপড়া, চর্মরোগ ও এলার্জি এবং যৌন সমস্যা বিশেষজ্ঞ লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন বাংলাদেশ লেজার স্কিন সেন্টার বাড়ী-৩৯ (আম্বালা কমপ্লেক্স) রোড-২ ধানমন্ডি, ঢাকা।