সব অনুসন্ধানেই এটি পরিষ্কার হয়েছে, জাতিসংঘের নেপালি শান্তিরক্ষী বাহিনীর দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই কলেরা আক্রান্ত নেপালি সেনাদের মাধ্যমে হাইতিতে কলেরার জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। হাইতিতে মহামারী আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়ার ক্ষতিপূরণের দাবি আনুষ্ঠানিভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর একটি ঘাঁটির পয়ঃনিষ্কাশন পাইপ ফেটে হাইতিতে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয় বলে জানিয়েছে বিবিসি অনলাইন। ওই বিবৃতিতে জাতিসংঘের মুখপাত্র মার্টিন নেসের্কি বলেছেন, ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী সব ধরনের দায় থেকে জাতিসংঘ মুক্ত হওয়ায় এ ধরনের ক্ষতিপূরণের দাবি জাতিসংঘের পক্ষে “গ্রহণ করা সম্ভব নয়”। সিদ্ধান্তটি জানানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন হাইতির প্রেসিডেন্ট মিশেল মার্শেলিকে ডেকে পাঠিয়েছেন।
২০১০ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর নেপালি সদস্যদের মাধ্যমে হাইতিতে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে। হাইতির দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে ছড়িয়ে পড়া কলেরা মহামারীর রূপ নেয়। এতে প্রায় ৬ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয় ও ৮ হাজার
মানুষ মারা যায়। এই মহামারীর দায় জাতিসংঘ কখনো স্বীকার করেনি। এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রকৃত উত্স চিহ্নিত করা অসম্ভব বলে দাবি করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। তবে সব অনুসন্ধানেই এটি পরিষ্কার হয়েছে, জাতিসংঘের নেপালি শান্তিরক্ষী বাহিনীর দুর্বল পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণেই কলেরা আক্রান্ত নেপালি সেনাদের মাধ্যমে হাইতিতে কলেরার জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে।
